শেরপুরে সন্ত্রাসী হামলা ও জমি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সমশ্চুড়া এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা ও জোরপূর্বক জমি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। আজ বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে শেরপুর শহরের মাধবপুরস্থ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. মরতুজ আলী।
তিনি নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব সমশ্চুড়া গ্রামের মৃত বয়েজ উদ্দিনের ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে মরতুজ আলী বলেন, পার্শ্ববর্তী পোড়াগাঁও গ্রামের ঘড়ি সেখের ছেলে মো. শামছুল হক আমার নিঃসন্তান বোনকে মা বানিয়ে প্রথমে ৫ কাঠা জমি লিখে নেয়।
পরবর্তীতে আমার বোন মারা যাওয়ার পর জাল দলিলমূলে আরও ৬ কাঠা জমি নিজের বলে দাবি করে। গত ৬ জুলাই ওই জমিতে স্থানীয় পোড়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া, মুসলিম ও আনছার উদ্দিনের সহায়তায় শামছুল হক ধান রোপন করতে যায়। এসময় আমার বড়ভাই জালাল উদ্দিনসহ অন্যান্যরা তাদের বাঁধা দিলে শামছুল হক ধারালো দা দিয়ে জালাল উদ্দিনের মাথায় কোপ দেয়।
এতে তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় শেরপুর আদালতে মজিবর রহমান, ফারুক মিয়া, শামছুল হক, মুসলিম ও আনছারসহ ৫ জনের নামে একটি এজাহার দায়ের করেন। আদালত এজাহারটিকে ৭ দিনের এফআইআর হিসেবে গণ্য করার জন্য নালিতাবাড়ী থানাকে নির্দেশ দিলেও আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এখনও সেটি এফআইআর হয়নি।
বরং মঙ্গলবার তারা আমাদের অন্য জমিও দখল করে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে ধান লাগিয়েছে। একইসাথে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় আমি বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে রয়েছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পোড়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান চৌধুরী বলেন, আমি জমিজমা বিষয়ে বিরোধের শালিসে গিয়েছিলাম। স্থানীয় আরও অনেক লোক শালিসে ছিল।
কাগজপত্র ঠিক থাকায় জমি শামছুলকে বুঝিয়ে দিয়ে চলে এসেছি। কোন মারধর বা জমি দখলের ঘটনা ঘটেনি। এরপরও যদি তারা কোন মামলা করে থাকে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া বলেন, আমি এই ঘটনার আগেপরে কিছুই জানি না। জমিসংক্রান্ত বিরোধের কথা শুনে তাদের দুপক্ষকেই ডেকেছিলাম। তারা কেউ আমার কাছে আসেনি। তাই এটার বিষয়ে আর কিছুই জানি না।
এরপরেও যদি আমার নামে মামলা দেয়, তাহলে কিছু করার নেই। এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, মামলাটি এখনও তার কাছে আসেনি। তাই বিষয়টি তার জানা নেই। মামলার কাগজপত্র পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থ নেওয়া হবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।