বেলকুচিতে বিদ্যালয় কমিটি গঠনে এটিইও’র বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ
উজ্জ্বল অধিকারী: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় ১২২ নম্বর চরঘুগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনে চরম অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বৈধ আবেদন জোরপূর্বক ফেরত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও) ও দপ্তরের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিকার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রার্থী মিজানুর রহমান।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের চরঘুগাট গ্রামের বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের দাতা সদস্যের সন্তান মিজানুর রহমানকে সভাপতি পদে সর্বসম্মতিক্রমে মনোনীত করে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মানুযায়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন জমা দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সভাপতি হওয়ার উদ্দেশ্যে আবদুল হাফিজ নামের অন্য এক ব্যক্তি বহিরাগতদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনায্যভাবে আরেকটি আবেদনে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে শিক্ষা অফিসে জমা দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুজ্জামান এবং শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী একরামুল হক নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষককে চাকরিচ্যুতি ও বিভাগীয় শাস্তির হুমকি প্রদান করেন। একপর্যায়ে সাদা কাগজে জোরপূর্বক লিখিয়ে নিয়ে প্রথম জমা পড়া বৈধ আবেদনটি ফেরত নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগকারীকে ফোনে নিশ্চিত করেছেন প্রধান শিক্ষক। প্রমাণের স্বপক্ষে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং সম্বলিত একটি মেমোরি কার্ডও অভিযোগপত্রের সাথে জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী মিজানুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে চরম অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা যেন তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুজ্জামান জানান, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ওই ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকলেও কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কারণ ওই সময়ে আমি একটি অফিশিয়াল ট্রেনিংয়ের জন্য ছুটিতে ছিলাম। ছুটিতে থাকা অবস্থায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম জড়ানো হয়েছে।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাহিদা ইয়াছমিন জানান, “চরঘুগাট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির জন্য দুই পক্ষ থেকে দুটি আবেদন পাওয়া গিয়েছিল। দুই পক্ষকেই প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে নোটিশ করা হয়। একটি পক্ষ বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারলেও অন্য পক্ষ তা না পেরে তাদের আবেদন তুলে নিয়ে গেছে।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান জানান, “চরঘুগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আগামী শিক্ষা কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উজ্জ্বল অধিকারী
বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধ



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।