পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরির ওপর জোর দিয়েছে সরকার- সচিব মো. ফিরোজ সরকার
রাজেশ গৌড়,দুর্গাপুর(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার বা ডাটাবেজ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে সরকার। ভুয়া বা মনগড়া তথ্য দিয়ে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প সফল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিরিশিরিতে অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমিতে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর আওতাধীন ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরূপণ জরিপ ২০২৬’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্যোগে অংশীজনদের অংশগ্রহণে আঞ্চলিক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকারের সভাপতিত্বে এবং দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাতের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মীর হোসেন এবং নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান সচিব মো. ফিরোজ সরকার সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন দেশে ফেরেন, তখন এক সংবর্ধনায় তিনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। তাঁর সেই প্ল্যান হলো সমগ্র বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমান্তরাল পর্যায়ে নিয়ে আসা। সমান্তরাল পর্যায়ে নিয়ে আসতে হলে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। আর সেই পরিকল্পনার জন্যই আমরা মাঠ পর্যায়ে এসেছি।”
সঠিক পরিসংখ্যানের গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি বলেন, “পরিসংখ্যান বিভাগের ডেটা হতে হবে শতভাগ সঠিক এবং তথ্যনির্ভর। এখানে কোনো ধরনের গোঁজামিল বা ভুয়া তথ্যের সুযোগ নেই। ধরুন, কোনো এলাকায় জনসংখ্যা যা আছে, জরিপে তা কম এলো। পরিসংখ্যান কম এলে সরকার যখন প্রকল্প নেবে, তখন বরাদ্দও কম হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি চান না। তিনি চান একদম সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে।”
জরিপের কাজে যুক্ত মাঠকর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে সচিব বলেন, “তথ্য সংগ্রহের সময় ফাঁকি দেওয়া চলবে না। আমি জরিপ চলাকালীন সময়ে নিজে ফোন করে খোঁজ নেব।”
কর্মশালায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শেষে কালচারাল ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।