সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

শাহজাদপুরে গাভী পালন প্রকল্পের ঋণের টাকা পাননি নারীরা, তবু মাথায় লাখ টাকার দেনা!

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক মোঃ জামরুল হাসান অন্যের জমিতে কাজ করে ও ট্রলি চালিয়ে দিনযাপন করেন এবং তার স্ত্রী সহজসরল গৃহবধূ মোছাঃ শাপলা পারভীনের দিন কাটে ¯^ামীর সংসারে সন্তানদের দেখাশোনা আর হাঁস মুরগী পালন করে| শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে শাপলা পারভীনের নামে| চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঋণ উত্তোলন হলেও শাপলা পারভীন বা তার ¯^ামী জামরুল হাসান কেউ জানেনা কিভাবে তাদের মাথায় উঠলো এই ঋণের বোঝা| এমনকি তারা ঋণের জন্য কোন প্রকার আবেদনও করেননি সমবায় অফিসে|

অপরদিকে পোতাজিয়া ইউনিয়নের ভ্যানচালক ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন ঋণের জন্য আবেদন করলেও অফিস থেকে জানানো হয় তাদের ঋণ পাশ হতে দেরি হবে| অথচ উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের ঋণগ্রহীতাদের তালিকায় রয়েছে আসমা খাতুনের নাম| তার নামেও ১ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে মে মাসের শেষ সপ্তাহে|

একই ভাবে নুকালী গ্রামের সোবাহান প্রামানিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুনও আবেদন করেছিলেন ঋণের জন্য| একই সময়ে ছালমা খাতুনের নামেও ১ লাখ টাকার ঋণ উত্তোলন হলেও অফিস থেকে ছালমা খাতুনকে জানানো হয়েছে তাদের আবেদন এ বছর পাশ হয়নি| গ্রামের সহজসরল গৃহবধূদের মাথায় কিভাবে এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা উঠলো তার সঠিক জবাব নেই উপজেলা সমবায় অফিসেও|

জানা যায়, চলতি বছরে শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের অধীনে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে ৮ জন মহিলাকে ১ লাখ টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা ঋণ প্রদান দেখানো হয়|

অভিযোগ উঠেছে, গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল আজহার ছুটির আগে ওই ৮ জন নারীর নামে ঋণের টাকা উত্তোলন করা হলেও অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না| আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তালিকাভুক্ত ৮ জনের মধ্যে মাত্র দুইজন ঋণের টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন| বাকি ছয়জনের নামে উত্তোলিত ঋণের অর্থ কোথায় গেছে, কারা উত্তোলন করেছে এবং কীভাবে তা বিতরণ দেখানো হয়েছে এসব বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ| ফলে কোনো অর্থ হাতে না পেয়েও নিজেদের নামে ঋণের দায় বহন করতে হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের| অজানা এই ঋণের বোঝা তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করেছে| বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি উঠেছে|

সরজমিনে গেলে নুকালী গ্রামের মোঃ ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন, মোঃ সোবহান প্রামাণিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুন, পোতাজিয়া গ্রামের মোঃ সাব্বির আহমেদের স্ত্রী মোছাঃ আছিয়া বেগম, বাগধুনাইল গ্রামেরমোঃ এনামুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ জমেলা খাতুন, পোতাজিয়ার মোঃ জামরুলের স্ত্রী শাপলা পারভীন জানান, তাদের নামে কিভাবে ঋণ উত্তোলন হয়েছে তা কেউ জানেন না| নুকালী গ্রামে মোছাঃ সম্পা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তবে তিনিও ঋণের টাকা পায়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে|

এদিকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রবিউল রানা জানান, ঋণগ্রহীতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই করে বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জনকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে| ঈদুল আজহার ছুটির আগে তাদের প্রত্যেককে চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে| তবুও কেন তারা টাকা পায়নি তা খতিয়ে দেখা হবে|

এব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, যাদের নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে তারা যদি না পেয়ে থাকে তাহলে তো ভয়ংকর ঘটনা| এমনটা যদি হয়ে থাকে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়