,

শিরোনাম

শিক্ষকদের মূল্যায়নে ডাকসুর ওয়েবসাইট, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সংবাদের আলো ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে চালু করা হয়েছে ওয়েবসাইট। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বানানো সাইটটির বিষয়ে শিক্ষকদের বড় একটি অংশ বলছেন, মূল্যায়নের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই হওয়া উচিত। প্রকাশ্যে শিক্ষকদের রেটিং দেওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

যদিও শিক্ষকদের মূল্যায়ন কর্মসূচিকে ইতিবাচক বলছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এ কর্মযজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে হওয়া দরকার বলে মনে করেন তারা। আর ডাকসু থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করলে ডাকসু তাদের উদ্যোগ থেকে সরে আসবে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে শিক্ষক মূল্যায়নের একটি ওয়েবসাইট চালু করে ডাকসু। এরপর সাড়ে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ১১ হাজারের মতো মূল্যায়নে মতামত দিয়েছেন।

ওয়েবসাইটে শিক্ষকতার বিভিন্ন দিক যেমন—পাঠদানের পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন এবং নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে মতামতের সুযোগ রাখা হয়েছে।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, এই ওয়েবসাইটটি তৈরির ফলে আমাদের মধ্যে একটা আশা জেগেছে যে, এবার আমরা শিক্ষকদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করতে পারবো।

আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, পদ্ধতিটা সুন্দর। তবে এটা যেভাবে পরিচালিত হয়েছে কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যা দেখছি, সেটা আমার কাছে কিছুটা বিতর্কিত মনে হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। একজন শিক্ষার্থী বলেন, অ্যানোনিমাস হওয়ায় যে কেউ নিজের ইচ্ছামতো মন্তব্য করতে পারছেন। ফলে এটি শিক্ষক মূল্যায়নের বদলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যা খুশি বলার সুযোগে পরিণত হচ্ছে। তাদের দেখা মন্তব্যগুলোর মধ্যে কিছু ইতিবাচক হলেও বেশিরভাগই ছিল নেতিবাচক বা মজা করার মতো। শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কের জায়গা থেকে এ ধরনের ভাষা বা মন্তব্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যতটুকু জানাশোনা আছে, তাতে মনে হয় না ডাকসু এমনটা করতে পারে। তবে যা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। এভাবে প্রকাশ্যে কাউকে হেনস্তা করা উচিত নয়।

ওয়েবে গ্রহণ করা তথ্য ফলাফল আকারে পাবলিক ডোমেইনে দৃশ্যমান করা হয়। প্রকাশ্যে আসে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত রেটিং। এরপর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এরই জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষক ট্রল ও কটূক্তির শিকার হয়েছেন। পরে ব্যক্তিগত রেটিং দেখার সুযোগ বন্ধ করে ডাকসু। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, মূল্যায়নের পক্ষে তারা। তবে এই কাজ কোনোভাবেই ডাকসুর এখতিয়ারভুক্ত নয়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা ডাকসু বা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের কাজ নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে ডাকসু নিজেদের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে।

শিক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রেটিং বা ফলাফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যায়নের সুযোগ থাকলেও ফলাফল প্রকাশ্যে দেওয়ার নজির কম।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে এভাবে কোনো উদ্যোগ নিলে শিক্ষকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং তাদের আরও ভালোভাবে পড়ানোর সুযোগ তৈরি করাই যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে বিষয়টি গোপনীয়ভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে তাদের জানানো উচিত ছিল। কিন্তু ডাকসুর পক্ষ থেকে যেভাবে বিষয়টি করা হয়েছে, তা মোটেও কাম্য নয়। তার মতে, এটি ডাকসুর একটি দায়িত্বহীন কাজ।

ডাকসুর এই শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে উদ্যোগ। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে প্রয়োজন হলে পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে বলে জানান ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি নিজেদের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করে, তাহলে ডাকসু তাদের চালু করা এই পদ্ধতি বন্ধ করে দেবে। কারণ, ডাকসুর উদ্যোগটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর জন্য চাপ দেওয়ার একটি মাধ্যম।

ডাকসু জিএস আরও বলেন, বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় পক্ষ শিক্ষক মূল্যায়ন করে থাকে। তবে ডাকসু চায় না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো বাইরের প্রতিষ্ঠান এ কাজ করুক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেই যেন পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

তবে পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষকদের মানোন্নয়নে মূল্যায়ন একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে সব পক্ষের মতৈক্য থাকলেও মূল্যায়নের প্রক্রিয়া, গোপনীয়তা এবং ছাত্র সংগঠনের এখতিয়ার নিয়ে বিতর্ক কাটছেই না।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়