টানা ৬৩০ দিন কলেজে দায়িত্ব পালন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শফিউল আলম চাঁন
শেরপুর প্রতিনিধি: গত ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ৬ই আগষ্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬৩০ দিন ডা.সেকান্দর আলী ডিগ্রি কলেজে দায়িত্ব পালন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক প্রতিনিধি শফিউল আলম চাঁন। তার এমন কর্মে খুশি হয়ে গত ১১ এপ্রিল কলেজ গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোসহ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
এবিষয়ে ডা.সেকান্দর আলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি শফিউল আলম চাঁন বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি এই কলেজে কর্মজীবন শুরু করি। প্রায় ২৯ বছরের চাকুরী জীবনে আমি নিজের মত করে এই কলেজকে আগলে রেখেছি। এই কলেজের প্রতিটি স্টাফ, শিক্ষকগণকে আমি আপনজন মনে করি। এছাড়া ডা.সেকান্দর আলী ডিগ্রি কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থী আমার সন্তান।
আমার কর্মজীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আমি এই কলেজের ভাবমূর্তি রক্ষায় সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করব। জানা যায়, শফিউল আলম চাঁন ডা.সেকান্দর আলী ডিগ্রি কলেজে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া সিদ্দিকীয়া তেরাবাজার মাদ্রাসার সভাপতি এবং জেলা শহরের খরমপুর জামে মসজিদের সেক্রেটারি পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ বলেন, কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি শফিকুল আলম চাঁন স্যার আমাদেরকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখেন। তিনি আমাদের সকল বিপদ-আপদে ঢাল হয়ে সামনে দাঁড়ান।
আমি তার সফলতা কামনা করি। ডা.সেকান্দর আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষক মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, কোন ছুটি কাটিয়ে টানা ৬৩০ দিন দায়িত্ব পালন কোন সহজ বিষয় নয়। কিন্তু শফিউল আলম চাঁন সাহেব বিষয়টি করে দেখিয়েছেন। তার এমন কৃতিত্ব অত্যন্ত গর্বের। উনি একজন প্রাণবন্ত মানুষ। এছাড়া তিনি কলেজ মনিটরিং এবং ক্লাস পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন। কলেজের অর্থনৈতিক বিভাগের প্রভাষক শাহনাজ ফেরদৌস বলেন, উনার সহযোগিতায় কলেজে নিয়মিত পাঠদান চলছে। পাশাপাশি কোন শিক্ষক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে না।
তার এমন আন্তরিকতায় আমরা খুবই আনন্দিত। ডা.সেকান্দর আলী ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মন্জুরুল হক বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা কলেজের সকল স্টাফ অসহায় অবস্থায় ছিলাম। এসময় শফিউল আলম চাঁন সাহেব কলেজকে আগলে রেখেছিলেন। তার কারণেই কলেজে কোন ক্ষতি বা ছাত্রছাত্রীদের কোন ক্লাস মিস হয়নি। উনার কারণে কোন শিক্ষক ফাঁকি দিতে পারেন না। এছাড়া প্রত্যেকটি শিক্ষক প্রতিদিন পূর্ন সময় দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
এ বিষয়ে ডা. সেকান্দর আলী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শামসুল আলম জানান, বিগত দুই বছরে তিনি ইচ্ছে করলে ২০ দিন করে মোট ৪০ দিন নৈমত্তিক ছুটি কাটাতে পারতেন। এছাড়া অসুস্থতা জনিত কোন কারনেও ছুটি কাটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি কোন ছুটি কাটাননি। তার এমন কার্যক্রমে আমরা আনন্দিত এবং খুশি। সত্যিকার অর্থেই শফিউল আলম চাঁন সাহেব একজন একনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী মানুষ।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।