পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু, আহত অন্তত ১০
সংবাদের আলো ডেস্ক: কালবৈশাখী ঝড়ের সময় দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে পাঁচজন, রংপুরে দুইজন, ময়মনসিংহে দুইজন এবং নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জে একজন করে মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। শনিবার দুপুরের পর বিভিন্ন জেলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সুনামগঞ্জে নিহত ৫
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- ধর্মপাশার হাবিবুর রহমান (৩০) ও রহমত উল্লা (১৫), জামালগঞ্জের নাজমুল হোসেন (২৬), তাহিরপুরের আবুল কালাম (২৫) এবং দিরাইয়ের লিটন মিয়া (৩০)।
তাহিরপুর উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আবুল কালাম নিহত হন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে নূর জামাল (২৬) নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানান জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী।
ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন হাবিবুর রহমান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামে বাড়ির পাশে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে রহমত উল্লার মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে ধান কাটতে গিয়ে লিটন মিয়া বজ্রাঘাতে নিহত হন। দিরাই থানার ওসি এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রংপুরে জেলে নিহত ২, আহত ৭
রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রাঘাতে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মিলন রায় ও আবু তালেব। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরার সময় পরপর কয়েকটি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে নয়জন আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মিলন রায় ও আবু তালেব মারা যান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গোল্ডেন মিয়া, তাঁর স্ত্রী লিমা বেগম, মর্জিনা বেগম, জগদীশ রায়, সুবল, নিখিল ও শামছুল। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং গুরুতরদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হবিগঞ্জে কৃষকের মৃত্যু
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে মমিনা হাওরে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নেত্রকোনায় নিহত ১
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার মেষির হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহানুর রহমান জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ময়মনসিংহে আরও ২ জনের মৃত্যু
এ ছাড়া ময়মনসিংহে বজ্রপাতে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় পৃথক এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের মৃত সেকান্দর আলী খানের ছেলে মমতাজ আলী খান (৫৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহমত আলী উজ্জল পেশায় একজন মুদি দোকানি ছিলেন। দুপুরে বজ্রপাতের সময় তিনি বোন জামাইয়ের ধানক্ষেত দেখতে পূর্ব কোনাপাড়া গ্রামে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী জানান, নিহতের দাফনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।