সোমবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণ হত্যা: হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

সংবাদের আলো ডেস্ক: রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়িতে কথিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আভিযোগ দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন। 

এ মামলায় সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ আরও ৬ আসামি রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। 

এই মামলাটি মূলত ২০১৬ সালের সেই বিতর্কিত অভিযানকে কেন্দ্র করে, যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার দাবি করা হয়েছে। 

মামলার নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই দিবাগত রাতে কল্যাণপুরের সেই ভবনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ পরিচালনা করে। সেই অভিযানে ৯ জন তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের দুর্ধর্ষ জঙ্গি হিসেবে দাবি করা হয়। তবে বর্তমান প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ তুলেছে যে, সেটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ‘জঙ্গি নাটক’, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচারবহির্ভূতভাবে তরুণদের নির্মূল করা, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

এই চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পাশাপাশি তৎকালীন সময়ের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক এসবির প্রধান ও ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামসহ আরও ছয়জন। প্রসিকিউশন পক্ষ মনে করে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই ব্যক্তিদের নির্দেশ ও সরাসরি যোগসাজশ ছাড়া এমন বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না।

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের এই পদক্ষেপকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে। অভিযোগপত্রে ৯ তরুণকে হত্যার পাশাপাশি ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আদালত এখন এই অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচারের ধারাবাহিকতায় এটি অন্যতম একটি বড় মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়