,

শিরোনাম

প্রকল্প অনুমোদনে চার শর্ত বাধ্যতামূলক : অর্থমন্ত্রী

সংবাদের আলো ডেস্ক: সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চার দফা বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করেছে সরকার। যেকোনো নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি, বিনিয়োগের বিপরীতে সম্ভাব্য রিটার্ন, নতুন কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত সুরক্ষা-এই চার শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বিদেশ নির্ভরতা পেরিয়ে : বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, বর্তমান সরকার দেশে উদ্ভূত বিভিন্ন সংকটের টেকসই সমাধান এবং সার্বিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার কেবল অংশীজনদের কথা বা পরামর্শ শুনেই ক্ষান্ত হতে চায় না, বরং সেসবের কার্যকর রেসপন্স ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, দেশের মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী নীতিগত কাঠামো তৈরি করা সময়ের দাবি। বর্তমানে সৃজনশীল অর্থনীতিসহ বহুবিধ ক্ষেত্রে এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক অবদান রাখছে। এই চলমান যৌথ প্রচেষ্টাকে আরও সুসংগঠিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত রূপ দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

ত্রিমুখী এই অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও সার্বিক সেবা সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। তবে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে এনজিওগুলোর কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে তাদের জন্য টেকসই অর্থায়নের পথ সুগম করতে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নীতি প্রণয়ন ও তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

দেশীয় কারুশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রসারের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী শীতলপাটির মতো স্থানীয় ঐতিহ্যের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের এই সব ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে বিশ্ববাজারে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দিতে হলে আধুনিক ডিজাইন সংযোজন, উপযুক্ত মূল্য সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক মানের বিপণন ও প্রচারণা জোরদার করতে হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় কারিগরদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন যেমন সম্ভব হবে, তেমনি দেশীয় সংস্কৃতিও বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চার দফা বাধ্যতামূলক শর্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি, বিনিয়োগের বিপরীতে সম্ভাব্য রিটার্ন, কর্মসংস্থান বা নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা ও সুরক্ষা-এই চার শর্ত অবশ্যই শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি বিনিয়োগে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই নির্ধারিত চার দফা শর্ত সঠিকভাবে পূরণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্পই সরকারের অনুমোদন পাবে না।

বিআইডিএস আয়োজিত এই সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ উন্নয়ন গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়