আসন না পেলেও কুড়িগ্রামকে অবহেলা করা হবে না: ত্রাণমন্ত্রী
খালেক পারভেজ লালু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: নির্বাচনে কোনো আসন না পেলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম জেলাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েও পড়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অসঙ্গতি ও অনিয়ম রয়েছে; তা একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে আরও কার্যকর করার জন্য কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ও কার্যকর প্রশাসন প্রয়োজন। রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কুড়িগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, কুড়িগ্রামকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জেলা থেকে সরকার কোনো আসন না পেলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রামকে কোনোভাবেই অবহেলা করা হবে না।আসাদুল হাবিব আরও বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের একটি পশ্চাৎপদ জেলা। এ জেলার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। জেলার অনেক মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্যবিমোচনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আয় বাড়ার ফলে দারিদ্র্য কমবে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যবিমোচনের প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কুড়িগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাও আরও বাড়বে।
রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম উদ্বোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আধুনিক অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। নতুন ভবনের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের পরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আরও সহজে সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সেবাগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন ও হলরুমের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ন আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসীব,রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনীম, ওসি মামুনুর রশীদ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।