বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে জট নিরসনের আশা মন্ত্রীর

সংবাদের আলো ডেস্ক: ২০৩০ সালের মধ্যে সব কন্টেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি জানিয়েছেন, বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে এবং জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমাতে সরকারের বিভিন্নমুখী উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে পতেঙ্গা, লালদিয়া ও বে টার্মিনাল-টু ও থার্ড কার্যক্রম শুরু হলে ২০২৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হতে পারবে।

আজ (বুধবার) বিকেলে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরের সীমাবদ্ধতা ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, কলম্বো ও সিঙ্গাপুর মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হওয়ায় সেখানে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। ফলে সেসব বন্দরে কাস্টমস পরীক্ষা বা ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর একটি ফিডার পোর্ট হওয়ায় এখানে কাস্টমস পরীক্ষা ও ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণেই ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের তুলনায় এখানে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কিছুটা বেশি লাগে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে আগত ও রপ্তানিযোগ্য কনটেইনারের প্রায় শতভাগই বাংলাদেশের নিজস্ব আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ফলে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ইতোমধ্যে অনেকটাই কমেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমবে।

পতেঙ্গা টার্মিনালের সাফল্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুন থেকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বন্দরে জাহাজের গড় অপেক্ষমাণ সময় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। অতীতে গভীর সমুদ্র এলাকায় জাহাজকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে কোনো জাহাজকে আর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। বর্তমানে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১ দিন সময় লাগছে। তবে পরিকল্পিত সব টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে ২০২৯ সালের মধ্যে এই সময়কে মাত্র অর্ধদিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি বর্তমানে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া লালদিয়া টার্মিনাল উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে চালুর প্রস্তুতি চলছে। বে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে এবং বে টার্মিনাল-২ নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে বে টার্মিনাল-৩ বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় সব কনটেইনার টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হলে ২০২৯ সালের মধ্যে সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে এবং তখন সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম একটি তথ্য সংশোধন করে দিয়ে বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল কোম্পানি, পোর্ট অব সিঙ্গাপুর নয়। পরে মন্ত্রী দাবি করেন, তিনিও সৌদি আরবের ওই কোম্পানির কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। সংসদে আলোচনায় আরও জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন বে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় বিদেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এদিকে সংসদের একই অধিবেশনে চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, ঐতিহ্যবাহী ‘গম্ভীরা’ পরিবেশনাকে ভবিষ্যতে ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে নমিনেশন ফাইল তৈরির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে ইতোমধ্যে এটিকে জাতীয় বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ইনভেন্টরিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়