রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক

সংবাদের আলো ডেস্ক: যশোরের শার্শায় এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২২ মে) উপজেলার সামটা সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোমিনুলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোমিনুল পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোমিনুল দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার (১৮ মে) তিনি অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর ভাড়া বাসায় গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার করলে শিক্ষক মোমিনুল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রী বিষয়টি বাসার মালিককে মৌখিকভাবে জানায়।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী কিছু নেতা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আরও জানা গেছে, এর আগেও একাধিক ছাত্রীকে ওই প্রধান শিক্ষক যৌন হয়রানি করলেও মান-সম্মানের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। 

এ ব্যাপারে জনৈক অভিভাবক বলেন, আমরা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে নিরাপদ মনে করি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মোমিনুলের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা হতবাক ও লজ্জিত। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোমিনুলের বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা তার বাসায় গেলে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। উল্টো তার পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের হেনস্তা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বাগআঁচড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্থানীয় ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সুষ্ঠু বিচার না পেলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি বর্তমানে চরম মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন।

সামটা সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুক মাওলানা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত মামলা করা হয়নি। মামলা দায়ের করা হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়