বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

প্রাথমিক শিক্ষায় এখনো কাঙ্ক্ষিত শেখার দক্ষতা অর্জিত হয়নি : ববি হাজ্জাজ

সংবাদের আলো ডেস্ক: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় এখনো কাঙ্ক্ষিত শেখার দক্ষতা অর্জিত হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেও তাদের বড় একটি অংশ শ্রেণি-উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। তাই পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সরকার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘রেমিডিয়াল শিক্ষা : কর্ম-অভিজ্ঞতা ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারেই শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক স্তরের চার থেকে দশ বছর বয়সি শিশুদের মৌলিক শেখার ভিত্তি দৃঢ় করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো– অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস থ্রিতে পড়লেও তারা সেই শ্রেণির উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (এনএসএ) অনুযায়ী প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পিছিয়ে আছে। ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে আমার মনে হয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, যেসব শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে বা ক্লাসে তাল মেলাতে পারছে না, তাদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করা হবে। লার্নিং সার্কেল, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, অভিভাবক অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কনটেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, ‘দ্য লার্নিং নেশন’ বইয়ে ববি হাজ্জাজ বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। বইটিতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের নানা দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক তপন কুমার দাশ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের এডুকেশন লিড শাহীন ইসলাম, সিনিয়র ম্যানেজার (এডুকেশন) তাহসিনা তাইমুর এবং অধ্যাপক মুরশিদ আখতার। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ, গণসাক্ষরতা অভিযানের কাউন্সিল মেম্বার এবং চলপড়ির প্রতিষ্ঠাতা জেরিন মাহমুদ হোসেন, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়