রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সংসদের ভেতরে যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারব, ততদিন সংসদে থাকব

সংবাদের আলো ডেস্ক: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের ভেতরে যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারব, কথা বলতে পারব, ততদিন সংসদে থাকব। লড়তে না পারলে বা কথা বলতে না পারলে এক মিনিটও থাকব না।

রোববার (১২ এপ্রিল) ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, যখনই বিএনপি সরকার গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ, দুদক অধ্যাদেশ, পুলিশ অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাতিল করেছে, তাৎক্ষণিক আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে ঘৃণার সঙ্গে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। ফ্যাসিবাদের পক্ষে বিএনপি দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়ায় আমরা এক মুহূর্তের জন্যও সংসদে থাকিনি। সংসদে টু-থার্ড (দুই-তৃতীয়াংশ) ক্ষমতাবলে বিএনপি গায়ের জোরে কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করে বিএনপি নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে।

আগামীতে চূড়ান্তভাবে ফ্যাসিবাদের পরাজয় এবং জনগণের বিজয় হবে উল্লেখ করে সেই আন্দোলনের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক পা কেটে ফেলার পরও জুলাই যোদ্ধার অনুভূতি, প্রয়োজন হলে পুরো শরীরই দেব, কিন্তু জুলাইয়ের অর্জন কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেব না। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জুলাই সনদকে সরকার উপেক্ষা করছে।

সরকারের প্রতি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রথম গণভোটও সংবিধানে ছিল না। সংবিধান যদি জনগণের জন্য হয়, তবে জনগণের ম্যান্ডেট মেনেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের পক্ষে কাজ করলে আমরা সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করব। কিন্তু সরকার জনগণের বিপক্ষে গেলে আমাদের ফাঁসিতে ঝুলালেও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে আমরা পিছু হটব না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মূলত ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এ দেশে খুনের রাজনীতি শুরু করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা খুন, গুম ও গণহত্যা চালিয়েছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। আওয়ামী লীগের পর নতুন করে যারা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের যৌথ পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বসির, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি সরকার কর্তৃক সৃষ্ট চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আমাদের করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যেই আজকের এই মতবিনিময় সভা। আজ শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধারা যে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, তাতে আমাদের করণীয় নির্ধারণ সহজ হয়েছে। আমরা জাতির স্বার্থে আপসহীনভাবে নিঃস্বার্থ ভূমিকা অব্যাহত রাখব।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আমরা চলমান সংকট সংসদে সমাধান চাই, কিন্তু সরকার সেই উদ্যোগ নিচ্ছে না।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বাংলাদেশে যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত না হয়, সেজন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে না নিলে আমরাও এই সরকারকে মেনে নেব না।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও জুলাই যোদ্ধাদের অসম্মান করেছে। দিল্লির পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগের অসমাপ্ত কাজ বিএনপি করতে যাচ্ছে; তাদের সেটি করতে দেওয়া হবে না।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়