‘আল্লাহ ভালো জানেন ৭১ সালের এই চরম সময়ে কার কি ভূমিকা ছিল’
সংবাদের আলো ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামী আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ ভালো জানেন ৭১ সালের এই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহতালা তার নিখুত, পূর্ণাঙ্গ, একমাত্র সাক্ষী। বাকী আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী। কিন্তু আল্লাহ তালাই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী। আমরা চাই, প্রিয় বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে, এই দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক সংগঠন তার কার্যক্রম পরিচালনা করুক।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আম খান জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেন। এসময় শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, এই বিল বিষয়ে এনসিপি কোনো আপত্তি জানায়নি। এনসিপি লিখিতভাবে সংসদকে তাদের মতামত জানিয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে বলেন, এই বিলে প্রস্তাবনা করা হয়েছে যে জিনিসটা, স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও আনেন নাই। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনিও আনেন নাই। তিনবারের অতি সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী তিনিও আনেন নাই। এ জিনিসটা নিয়ে আসলেন সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করে ফ্যাসিস্ট এর বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা এবং পরবর্তী পর্যায়ে ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে সামান্য পরিবর্তনসহ। কী আছে এখানে? তৎকালীন তিনটা সংগঠনের নাম নেওয়া হয়েছে— তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামাতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরও কিছু অক্সিসিলারি ফোর্সের সাথে তিনটা রাজনৈতিক দলের নাম এসেছে। বর্তমান উপস্থাপনায় বা প্রস্তাবনায় তৎকালীন এই তিন সংগঠনের কথা বলা হয়েছে আল্লাহ ভালো জানেন, ৭১ সালের এই চরম সময়ে কার কি ভূমিকা ছিল। আল্লাহতালা তার নিখুত পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী। কিন্তু আল্লাহ তালাই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী। আমরা চাই, প্রিয় বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এই দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক সংগঠন তার কার্যক্রম পরিচালনা করুক।
বিরোধী লীয় নেতা বলেন, ‘৪৭ এ একবার ২৩ বছর পর আবার মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা দেশ এবং জাতির জন্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে লড়াই করেছিলেন তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। এই সময় যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে এই যুদ্ধে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের অনেকেই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, আমি তাদের সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং আল্লাহ তাালার দরবারে আল্লাহ যাতে তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করেন সেজন্য দোয়া করছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে বুক ভরা আশা নিয়ে মানুষ চেয়েছিল এই দেশটা একটা মানবিক দেশ হবে। সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরে অনেকটা হয়েছিল তার পুরাটাই উল্টা। মানুষের ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করার কারণে যে যুদ্ধটি অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। জনগণের রায়কে সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে। বেদনার সঙ্গে জাতি লক্ষ্য করল দেশের শাসক এবং শাসকেরা সেটাই ভুলে গেলেন। তাদের শাসন ক্ষমতার এক পর্যায়ে এসে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে তারা একদলীয় বাকশাল কায়েম করলেন।
তিনি বলেন, এই বাকশাল কায়েমের ইতিহাসও খুব বেদনাদায়ক। সংসদে আমি জানি না ৭৩ এর যে সংসদ গঠিত হয়েছিল। আজকের এই সংসদে সেরকম কোনো উপস্থিত আছেন কিনা আমার ধারণা নেই, এই সংসদ মাত্র সাত মিনিট আলোচনা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল এবং একদলীয় বাকশালের জন্ম দিয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশের তখনকার বিদ্যমান সবগুলা রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল এমনকি আওয়ামী লীগ এতটা বেপরোয়াহ হয়েছিল যেই আওয়ামী লীগ নামে তারা নির্বাচন করে ৭০ এবং ৭৩ সালে ক্ষমতায় এলো। তারা স্বয়ং আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করল।

‘৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতার ধারাবাহিকতায় মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আল্লাহ তা-আলা তাকে শাহাদাতের উত্তম মর্যাদা দান করুক। তার হাতে নিঃসন্দেহে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে যার সুফল পরবর্তী পর্যায়ে জাতি পেয়েছে এবং আজকের পার্লামেন্টও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। তিনি জনগণের মনের ভাষা পড়তে পেরেছিলেন, এই জন্যে তাকে যখন নির্মমভাবে খুন করা হলো। তখন দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি ইতিহাসের বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। আমরা তখন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র। আমরা দেখি নাই উনি কোনও দলকে প্রতিনিধিত্ব করতেন। আমরা দেখেছি উনি জনগণের ভালোবাসার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এজন্য আমরা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই মিলেমিশে সেদিন আমরা কি করতে পারবো একটু কোরআন খতম করেছি চোখের পানি দিয়ে তার জন্য দোয়া করেছি এরপরে তার ইন্তেকালের পরে বাংলাদেশ আবার অস্থিরতার মধ্যে ঢুকে এবং ক্রমাণ্যয়ে সেই অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে জাতি চলছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে পলিটিক্যাল পার্টিস লিবাইবেল অ্যাক্টের মধ্য দিয়ে স্বয়ং আওয়ামী লীগও আবার তাদের পুনর্জন্ম হয়। বাংলাদেশে এবং সে সময় যে কয়টি দল ছিল তারা সবাই রাজনীতি করার এই সুবিধাটুকু বা তাদের অধিকারটুকু তারা ফিরে পান। আমরাও সেই সময় ফিরে পেয়েছি এজন্য আল্লাহতালার কৃতজ্ঞতা আদায় করার পাশাপাশি যে মহান ব্যক্তি উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারও কৃতজ্ঞতা আমরা আদায় করছি। আমরা কখনো এটা ভুলে যাইনি ভুলে যাব না। আমরা সেই দায়-দরদ ভালোবাসা নিয়েই ৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি। আগামীর দিনগুলোতেও আর জাতিকে বিভক্ত নয় বরং ঐক্যবদ্ধ করে আমরা যাতে একটি মাথা তুলে দাঁড়ানো সম্মানের জাতি গঠন করতে পারি, সব দলের এটি হোক অঙ্গীকার আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।