বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

শাহজাদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত বাবা-ছেলে ! নেতৃত্বে কারা

শাহজাদপুর(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কাপর ব্যবসায়ী মানিক মিয়া (৫৫) ও তার ছেলে অন্তরকে (২৫) প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এসময় দোকানের মালামাল ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় অন্তরের পিতা আহত ব্যাবসায়ী মানিক মিয়া বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনের নামে মামলা দ্বায়ের করেন।

এদিকে গতবুধবার দুপুরে শাহজাদপুর পৌর শহরের রবীন্দ্র কাছাড়ি বাড়ির পাশে কাপড় হাটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় লোকজন এগিয়ে এলে তাদেরও মারধরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। হামলাকারীরা পৌর সদরের দ্বাবারিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে লোকজন জানায়। হামলার নেতৃত্ব এবং পেছনের অর্থনৈতিক মদদদাতাদের পরিচয় নিয়ে শাহজাদপুরবাসীর মধ্যে প্রশ্ন ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এসময় স্থানীয়রা অন্তরকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় সিপিডি ট্রাস্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অপরদিকে আহত ব্যবসায়ী মানিক মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৃদয়ের শাহজাদপুর নামে এক আইডি থেকে এ কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া অভিযোগ তুলেছে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পৌর বিএনপি’র সভাপতি ইমদুদুল হক নওশাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার গতবুধবার রাতে দ্বারিয়াপুর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন ইমদুদুল হক নওশাদ।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা দুইভাই শাহজাদপুরে পরিষ্কার রাজনীতি করি, আমাদের নামে কোন অপবাদ নেই। আমাদের দুই ভাইয়ের নাম জরিয়ে একটি ভুয়া আইডি থেকে সম্মানহানী করার জন্য মিথ্যা প্রচারনা করছে তার তীব্র নিন্দা ও পাশাপাশি যেসকল সন্ত্রাসীরা নিরীহ ব্যাবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে তাদের সবোর্চ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি। বৃহস্পতিবার(২ এপ্রিল) বিকালে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে জানান, এঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হল- হাজী নুর ইসলামের ছেলে আব্দুল বাশার চেনি(৫৫) ও মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন সরকার(৪৩)। এছাড়াও সিসি টিভি বিশ্লেষন করে জরিতদের আটক করার চেষ্টা চলছে। আটককৃতরা তো কিশোর নয় এমন প্রশ্নের জব্বাবে ওসি বলেন এনারা মদদদাতা। এব্যাপারে আহত ব্যাবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, গতকাল দুপুরে বেশ কয়েকজন কিশোর আমার ছেলে অন্তরকে ডেকে নিয়ে চাঁদা দাবি করে। সে অস্বীকার করে তারা তাকে মারধর করে চলে যায়।

পরে ২৫/৩০ জনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ছেলের উপরে হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও তারা কুপিয়ে আহত করে তারা। এঘটনায় বৃহস্পতিবার(২এপ্রিল) দুপুরে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে শহরে বিক্ষোভ মিছিল মনববন্ধন করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মনছুর আলী, সাধারণ সম্পাদক রনি খান শান্ত, হাটের পরিচালক নদিম হোসেন, রবিউল ইসলাম ও শ্রমিক নেতা খোকন আলীসহ অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং চাঁদা না দেওয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, হামলাকারীরা দোকান থেকে প্রায় ৬-৮ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা হলে দোকান বন্ধ রেখে আন্দোলন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

এবিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, আসামীদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধী বা কিশোর গ্যাংয়ের লিডার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি করা হবে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়