বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

৩ বছরেও শেষ হয়নি চার লেনের কাজ যমুনাসেতু মহাসড়কে ঈদে যানজটের আশঙ্কা

আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনাসেতু পর্যন্ত ঈদে যানজটের আশংকা রয়েছে। যানজট সৃষ্টি হলে বিকল্প সড়ক হিসেবে এলেঙ্গা-ভূঞাপুর-যমুনাসেতু আন্ত:জেলা মহাসড়ক ব্যবহার করেন চালকরা। ফলে ভূঞাপুরেও যানজট সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। কারণ তিন বছরেও এলেঙ্গা-যমুনাসেতু মহাসড়কে ১৩ কিমি রাস্তার কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

এলেঙ্গা-যমুনাসেতু মহাসড়কে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। তিন বছর পেরিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। এতে বিভিন্ন সময়ে এ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের পড়তে হয় দুর্ভোগে। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় যানজটে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়ে কয়েকগুণ। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজের ধীরগতির অভিযোগ পরিবহন চালক ও যাত্রীদের।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় এই অংশ নির্বিঘ্নেই যাতায়াত করতে পারছেন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪টি জেলার যাত্রীরা। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার (সাসেক-২ প্রকল্প) আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়কের উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। এ কাজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬০০ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মার্চ মাসে মহাসড়ক উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়। এরইমধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তবনাও দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ।
বর্তমানে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ চলমান। সার্ভিস লেনসহ মহাসড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাসের কাজও চলমান। কোথাও কোথাও মহাসড়কের মাঝখানে বালু রাখতে দেখা যায়।

এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘পাঁচ মাস হলো এখানে কাজ করছি। বর্তমানে দ্রুততম সময়ে কাজ করার নিদের্শনা রয়েছে। তাই আমরা একাধিক শ্রমিক দ্রুতগতিতে কাজ করছি।’

একাধিক পরিবহন চালক জানান, কয়েক বছর ধরে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত রাস্তার কাজ চলছে। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে আমাদের জানা নেই। শুধু ঈদ এলেই তড়িঘড়ি করে কাজ করা হয়। অন্য সময়ে কাজের তেমন গতি দেখা যায় না।
বাসচালক মো. নান্নু বলেন, ‘মহাসড়কের এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ চলছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ এলেই এ মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট লাগে। তখন বিকল্প হিসেবে ভূঞাপুর হয়ে যমুনা সেতু পার হতে হতে হয়।’

আরেক বাসচালক রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘মহাসড়কের কাজের জন্য আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। দ্রুতই কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আসন্ন ঈদযাত্রায় মহাসড়কের দুই পাশেই চার লেনে যানবাহন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হবে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবনার সঙ্গে ব্যয় কত টাকা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়