সোমবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জামায়াতের বৈঠকে যাওয়ার অভিযোগে বেলকুচিতে মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই বাজার মল্লিকবাড়ি জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ ইব্রাহিম হোসেন সিরাজীকে জামায়াতের একটি বৈঠকে যাওয়ার অভিযোগে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইমাম মঙ্গলবার বিকালে বেলকুচি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “গত সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেলে আমি একটি অমানবিক, অগণতান্ত্রিক ও অন্যায় সিদ্ধান্তের শিকার হই। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়—আমি বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলীমের নিজ গ্রামের মসজিদের ইমাম হওয়া সত্ত্বেও নাকি জামায়াতের একটি বৈঠকে যাওয়ার পথে ছিলাম।

অথচ আমি কোনো অপরাধ করিনি, কোনো অপরাধমূলক কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নই। তিনি আরও বলেন, “একটি রাজনৈতিক সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো নোটিশ ছাড়াই, কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই মোবাইল ফোনে আমাকে মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। মসজিদ কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তৎক্ষণাৎ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাকে জানিয়ে দেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ আবু শাহিন মল্লিক।”

নিজের পরিচয় তুলে ধরে ইমাম মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “আমি একজন আলেম, একজন হাফেজ ও একজন ইমাম। আমার দায়িত্ব মসজিদে নামাজ পড়ানো, কোরআন শিক্ষা দেওয়া এবং সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “একজন ইমাম কি এই দেশের নাগরিক নন? তাঁর কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই? ধর্মীয় দায়িত্ব পালন কি এখন রাজনৈতিক অনুমতির ওপর নির্ভর করবে?” তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করলেও বাস্তবে আজ মসজিদ পর্যন্ত রাজনৈতিক দখলদারিত্বের শিকার হচ্ছে।”

এ ঘটনাকে শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত, আলেম সমাজের মর্যাদার ওপর আঘাত এবং গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর আঘাত।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

পাশাপাশি প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন ও বিবেকবান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, “আমি প্রতিহিংসা বা সংঘাত চাই না, আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই। আজ আমাকে বিনা নোটিশে অপমান করা হলে আগামীতে অন্য কোনো ইমাম বা আলেমও একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন।” এ বিষয়ে মসজিদের সভাপতি শাহীন মল্লিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এলাকার লোকজন এ ইমামকে চায় না বলেই এ অবস্থা।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়