বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

একটি প্রশ্নে ১২২ সিদ্ধান্ত: প্রস্তাবিত গণভোটের নেপথ্যে যা আছে

গণভোট সাধারণ দৃষ্টিতে একে একটি জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া মনে হলেও, এর গভীরে থাকা আইনি ও কাঠামোগত জটিলতাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য বেশ উদ্বেগজনক। নিচে এই আলোচনার মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:

​একটি প্রশ্নে ১২২টি সিদ্ধান্তের ভার: সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গা হলো ভোটের ব্যালট পেপার। জনগণকে মাত্র একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মোট ১২২টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হচ্ছে। এর মধ্যে জুলাই সনদের ৮৪টি বিষয়, বাস্তবায়ন আদেশের ১৫টি এবং গণভোট অধ্যাদেশের ২৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। একজন সাধারণ ভোটারের পক্ষে একটি মাত্র উত্তরের মাধ্যমে এতগুলো স্পর্শকাতর ও জটিল বিষয়ের গভীরে গিয়ে নিজের প্রকৃত রায় দেওয়া প্রায় অসম্ভব। এটি জনমতের প্রতিফলন নয়, বরং সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।

​রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাব: সরকার বলছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, কিন্তু তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত একটি বিষয় ছাড়া বাকি কোনো ইস্যুতেই ৩৩টি দল একমত হতে পারেনি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে। বিশেষ করে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বা উচ্চকক্ষ গঠনের মতো দীর্ঘমেয়াদী ইস্যুতে যেখানে ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন ছিল, সেখানে একটি গণভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়বদ্ধ করা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

​আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক মানদণ্ড: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন গণভোট হয়, তখন সাধারণত একটি সুনির্দিষ্ট একক বিষয়ের ওপর জনগণের রায় নেওয়া হয়। আয়ারল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে এমনটিই দেখা যায়। আর যেসব দেশে একাধিক প্রশ্ন থাকে, সেখানে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য আলাদা আলাদা মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবিত এই প্রক্রিয়ায় সবকিছুকে একত্রে মিশিয়ে একটি ‘বাইনারি’ অপশন রাখা হয়েছে, যা কোনোভাবেই একটি আদর্শ গণভোটের সংজ্ঞায় পড়ে না।

​ভবিষ্যৎ সংসদের ওপর আইনি চাপ: এই গণভোটের মাধ্যমে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়, তবে পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের ওপর একটি আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে এই অধ্যাদেশগুলো পাস করার। যেখানে একটি সংসদীয় কমিটিতে একটি আইন নিয়ে মাসের পর মাস বিতর্ক ও আলোচনা হওয়ার কথা, সেখানে গণভোটের দোহাই দিয়ে সে সুযোগটি সংকুচিত করা হচ্ছে। এটি শুধু সংসদীয় সার্বভৌমত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে না, বরং জনগণের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথভাবে অনুধাবনের সুযোগও কেড়ে নিচ্ছে।

লেখক:

তানভীর আনজুম তুষার

উন্নয়ন কর্মী।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়