,

তাড়াশে বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ করলেন প্রফেসর আব্দুল হাকিম ‎

খালিদ হাসান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: ‎সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ঘোষিত “রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি” প্রচার ও গণজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ। ‎ ‎সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ–রায়গঞ্জ–সলঙ্গা) আসনের বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. আব্দুল হাকিম। তিনি বিকম (অনার্স), এমকম ও এলএলবি ডিগ্রিধারী এবং তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক।

‎পেশাগত জীবনে তিনি প্রাক্তন অ্যাডভোকেট ও সিরাজগঞ্জ জজকোর্টের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সদস্য, সদস্য সংগ্রহ, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিফলেট বিতরণকালে প্রফেসর আব্দুল হাকিম বলেন, ‎গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের মুক্তির রূপরেখা। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এ দেশকে আইনের শাসন ও সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাড়াশ উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। তারা তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ‎ ‎ ‎সবার উপরে মানুষ, তারপরেই দেশ— এই বিশ্বাসে প্রফেসর আব্দুল হাকিম বলেন,দেশের জনগণের অধিকার নিয়েই রাজনীতিবিদদের সংগ্রাম হওয়া উচিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাকর্মী নিজেদের স্বার্থ ও কর্তৃত্ব রক্ষায় ব্যস্ত থাকেন, জনগণের কল্যাণের কথা ভুলে যান।

‎তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র সুসংহত হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সন্দেহ ও কূটকৌশলের কারণে ১/১১ সেনাসমর্থিত সরকার জন্ম নেয়, যার ফলে বড় দুই দলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল ও বিরোধী দল দমনের মাধ্যমে একদলীয় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের পর জুলাই–আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদ পরাজিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ‎তিনি আরও বলেন,আমাদের মনে রাখতে হবে, এই ফ্যাসিবাদের মূল শক্তি ছিল বিদেশি প্রভাব—বিশেষ করে ভারতের। আমাদের চারপাশে ভারত ও মিয়ানমার দুটি বৈরী প্রতিবেশী দেশ। সীমান্তে কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই। তাই দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দল ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন,রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা, পরমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা চর্চা করতে হবে। দলের গঠনতন্ত্র মেনে দল পরিচালনা করা, নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন আনতে হবে। ‎ ‎ ‎শেষে তিনি আহ্বান জানান,জনগণকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। দেশের ও এলাকার জন্য ভালো রাজনৈতিক দল ও নেতাকে চিনে নিতে হবে, সমর্থন দিতে হবে। প্রয়োজনে নেতাদের ও দলগুলোর সমালোচনা করে তাদের সঠিক পথে চালিত করতে হবে তবেই সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ