সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

মসজিদের ভেতর মারামারি: আলফাডাঙ্গায় ইরি ব্লকে পানি দেওয়া নিয়ে হামলার শিকার জামাত নেতা

আলমগীর কবির,  আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর পূর্ব পাড়া জামে মসজিদের ভেতরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ইরি ব্লকে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে এই হামলার শিকার হয়েছেন মো. মনিরুল ইসলাম (২৮) নামের এক জামাত নেতা। তিনি উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন এর ৩ নং ওয়ার্ড জামাতে ইসলাম এর সভাপতি।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত মনিরুল বর্তমানে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর ইরি ব্লকে পানি দেওয়া নিয়ে স্থানীয় মো. শহিদুল ইসলাম সোজা ও তার লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই শহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করার সুযোগ খুঁজছিলেন।

ঘটনার দিন রাতে মনিরুল গোপালপুর পূর্ব পাড়া জামে মসজিদের ভেতরে থাকাকালীন শহিদুল ইসলামের নির্দেশে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী দল বাঁশের লাঠি, লোহার রড, হাতুড়ি এবং এসএস পাইপ নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম সোজার সঙ্গে  মুঠো ফোনে  এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোনায়েম খান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, ইরি ব্লকে পানি দেওয়া নিয়ে এই মারামারি শুরু হলেও, এর পেছনে মসজিদ কমিটির কিছু পুরোনো বিরোধও কাজ করছে। এলাকার বেশ কিছু মানুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মনিরুল এবং শহিদুলের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মসজিদের ভেতরের এই ঘটনা তাদের পুরোনো বিবাদেরই ধারাবাহিকতা।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইরি ব্লকে পানি দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল এবং সেই বিরোধের জেরেই মসজিদের ভেতরে মারামারির ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহত মনিরুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়