সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি শিক্ষকদের

সোহাগ মিয়া, মাধবপুর প্রতিনিধি: মাধবপুর উপজেলাধীন আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগ এনে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ।

‎ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিতি পেলেও, বর্তমান প্রধান শিক্ষকের কার্যক্রমে এর সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষক-কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত। অভিযোগে উল্লেখিত অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে:

রসিদ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ও অন্যান্য ফি আদায় এবং ব্যাংকে নিয়ম অনুযায়ী জমা না দেয়া, পরিচালনা পরিষদের রেজুলেশন জালিয়াতি করে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা না রেখে নগদ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, প্রশংসাপত্র ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, বিশেষ ক্লাস বাবদ আদায়কৃত অর্থের অংশ জমা না দিয়ে আত্মসাৎ বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও ক্রয় উপকমিটি এড়িয়ে খরচের অভিযোগ, পুরাতন বই, পরীক্ষার খাতা, বেতন কার্ড ইত্যাদি বেআইনিভাবে বিক্রি করে ফান্ডে না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি গঠন না করা এবং হিসাব উপস্থাপনে স্বচ্ছতা না রাখা, নারী শিক্ষার্থী ও মহিলা অতিথিদের নিয়ে অশোভন মন্তব্যসহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগ।

‎শিক্ষক-কর্মচারীরা দাবি করেন, প্রধান শিক্ষকের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে শিক্ষক-অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা হুমকির মুখে পড়েছে।

তাঁরা দ্রুত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

‎সিনিয়র শিক্ষক মানসুরা আক্তার বলেন, “আমরা যে অভিযোগগুলো করেছি, তা সম্পূর্ণ সত্য। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলে সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

সহকারী শিক্ষক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে এখানে কর্মরত। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারিনি। প্রধান শিক্ষক আমাদের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ করেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া বিভিন্ন ফি আদায় করেন। এছাড়া ছাত্রী ও মহিলা অতিথিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

সিনিয়র শিক্ষক রাখি রানী দেব বলেন, “আমি এই অভিযোগকারীদের দলে নেই। তবে আমি চাই সত্য বেরিয়ে আসুক। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা আমার সম্মানিত সহকর্মী।”

অফিস সহকারী মোঃ রায়হান উদ্দিন বলেন, “প্রধান শিক্ষক আমাকে আমার নির্ধারিত কাজ করতে দেন না। প্রশংসাপত্র বাবদ আদায়কৃত অর্থের আংশিক ব্যাংকে জমা দিলেও বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।”

‎নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর রহমান বলেন, “অভিযোগগুলো সত্য। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পাবে।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমি নির্দোষ, এবং তদন্তেই তা প্রমাণিত হবে।”

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মাধবপুর উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর) মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জানান, “বিষয়টি আমি শুনেছি। ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমি গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি। যেহেতু জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট অভিযোগ করা হয়েছে, আমরা স্যারের  নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমি শুনছি, তবে কি বিষয় নিয়ে জানি না। বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়