বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার : নুরুল হক নুর

সংবাদের আলো ডেস্ক: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে আরও সম্প্রসারণ এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা যাচাই করা হচ্ছে।

আজ (বুধবার) বিকেলে জাতীয় সংসদে নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনশক্তি রপ্তানির ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। বিএনপি সরকারের আমলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত আরও সম্প্রসারিত হয় এবং ২০০১ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের ১৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ছয়টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ৫৫টি ট্রেডের ১৩০টি পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৯টি বিদেশি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ৫০টি উপজেলায় নতুন কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া ‘রেকগনিশন অব প্রায়র লার্নিং (আরপিএল)’ কর্মসূচির আওতায় দক্ষতার স্বীকৃতি ও সনদ প্রদান করা হচ্ছে।

নুরুল হক নুর আরও জানান, দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক লাখ দক্ষ চালক তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের তাকামুলের সঙ্গে চুক্তির আওতায় বর্তমানে ৩০টি প্রতিষ্ঠানে ৭৯টি পেশায় স্কিল টেস্ট পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের ৬০টি টিটিসিতে জাপানিজ, কোরিয়ান, ইংরেজি, আরবি, জার্মান, ম্যান্ডারিন, ইতালিয়ানসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং সাধারণ প্রবাসীদের জন্য ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ওমান, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হচ্ছে। ২৮টি সম্ভাব্য শ্রমবাজারের মধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাতার টেকনিক্যাল খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডারদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ওমান ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে নতুন চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা থাকলেও ভিসা সেন্টারের অভাবে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব দেশের ভিসা কার্যক্রম সহজ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ঢাকায় নিয়মিত কনস্যুলার সেবা প্রদান করে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়