শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কাঁচা চামড়া নয়, চামড়ার পণ্য রপ্তানি আমাদের উদ্দেশ্য : বাণিজ্যমন্ত্রী

সংবাদের আলো ডেস্ক: চামড়া নয়, চামড়া পণ্য রপ্তানি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। যাতে আমরা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারি এবং উচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার (২৯ মে)  দুপুরে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হরিনধরা এলাকায় বিসিক শিল্প নগরী ট্যানারি পল্লীতে বর্জ্য শোধনাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বলেন, কাঁচা চামড়ার মূল্য তো অল্প। ওয়েট ব্লু, কাস্ট লেদার এবং  ফিনিশিং লেদার একটি প্রসেস পর্যন্ত এটি চামড়া থাকে। এরপরে ওই চামড়া দিয়ে জুতা-স্যান্ডেল, ব্যাগ, বেল্ট, সুটকেস যাই বানান হয়; সেটা চামড়াজাত পণ্য। এখন যদি ওয়েট ব্লু কাস্ট বা ফিনিস লেদার রপ্তানি না করে ব্যাগ, জুতা, বেল্ট তৈরি করা হয়; তাহলে মাঝখানে যে ভ্যালু এডিশন হচ্ছে- এটার পরিমাণ অনেক।

তিনি আরও বলেন, কাঁচা চামড়া আর চামড়াজাত পণ্যের মাঝখানে অনেকগুলো প্রক্রিয়া রয়েছে। এর কারণে অনেকগুলো শিল্প কলকারখানা তৈরি হচ্ছে। এরমানে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। চামড়া নয়, চামড়া পণ্য রপ্তানি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। যাতে আমরা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারি এবং উচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল। কারণ ঠিকমতো বর্জ্য শোধনাগারের ব্যবস্থা আছে এবং উচ্চ মাত্রার বর্জ্য তৈরি হয় এরকম একটা শিল্প এখানেই হওয়া উচিত। কিন্তু যেভাবে স্থানান্তর হয়েছে সেই ব্যবস্থাপনাটা ছিল ক্লাসিক কেস অফ মিস ম্যানেজমেন্ট। সেই কারণে বর্জ্য শোধনাগারের যে ক্যাপাসিটি ছিল, তা ফাংশনাল সেই ক্যাপাসিটি আর যেসকল ট্যানারি এসেছে তারা প্রত্যেকে জীবিত থাকতে পেরেছে।

তিনি বলেন, অনেকগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠান মাঝপথে হারিয়ে গিয়েছে। আমরা যে বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছি, বর্জ্য শোধনাগারের যে প্রজেক্টেড ক্যাপাসিটি ছিল ২৫ হাজার, সেটা কি কি পরিবর্তন করলে সেই জায়গাতে আবার ফেরত আসব এবং তার জন্য কি করা লাগবে সেটা আমরা করব। 

ট্যানারি খাতে নতুন বিনিয়োগকারীদের কিভাবে নিয়ে আসা যায় এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকেই স্থানান্তরের সময় যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ঝরে গেছে। পরবর্তীতে অচল অথবা নিম্নমাত্রায় সচল থাকার কারণে বিপুল পরিমাণ দায় দেনার সম্মুখীন হয়েছে এবং লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সেগুলোকে কী উপায়ে আবার লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়। যারা এই ব্যবসায় আর সক্ষমতা রাখে না এবং আগ্রহ ও সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। নতুন বিনিয়োগকারীকে আনা যায় এরকম প্রত্যেকটি জিনিস নিয়ে আমরা কাজ করছি।

এসময় মন্ত্রী বর্জ্য শোধনাগার সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে বলেছেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে ইটালিয়ান একটি প্রতিষ্ঠান প্রজেক্টেড সিইটিপিতে আনা যায় এবং কী কী সংস্কার ও সংশোধন লাগবে তার একটি রিপোর্ট পাব বলে জানান তিনি। 

এ সময় বিসিক কর্মকর্তা ও উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়