ময়মনসিংহের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সংবাদের আলো ডেস্ক: ময়মনসিংহের পথে এরই মধ্যে যাত্রা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রিশালে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন করতে শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, শনিবার দুপুরে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে ত্রিশালে এসে বেলা সাড়ে ২টায় উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের কানহর বাজার এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। সেখানে আয়োজিত সমাবেশেও বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ত্রিশাল সফরকে ঘিরে পুরো উপজেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও এসএসএফ সদস্যদের তৎপর উপস্থিতিতে ত্রিশাল এখন কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, পরে প্রধানমন্ত্রী দরিরামপুর নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনদিনব্যাপী জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এরপর নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কজুড়ে টাঙানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্যানা। নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণের এক পাশে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল, অন্য পাশে বসেছে নজরুল মেলা।
ত্রিশালবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে উপজেলাবাসীর জন্য বিশেষ কোনো উন্নয়ন উপহার ঘোষণা করা হতে পারে। স্থানীয়দের দাবির মধ্যে রয়েছে নজরুল সিটি বাস্তবায়ন, সম্ভাবনাময় শিল্পাঞ্চল হিসেবে ত্রিশালকে শিল্পনগরী ঘোষণা, কারিগরি শিক্ষার প্রসারে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প।
ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালবাসীকে বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দিয়েছিলেন। এবার আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ত্রিশালবাসীর স্বপ্নপূরণে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু উপহার দেবেন বলে আমরা আশাবাদী।
তিনদিনব্যাপী এ উৎসবজুড়ে থাকবে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও স্থানীয় শিল্পীরা অংশ নেবেন বিভিন্ন পরিবেশনায়। পাশাপাশি মেলায় বসেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্টল। রয়েছে নজরুল বইমেলাও। কবি-সাহিত্যিক ও নজরুলপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে নজরুলের স্মৃতিধন্য ত্রিশাল।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।