রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

রায়গঞ্জে গরু চোরদের রুখতে বাঁশের গেট, পাহারায় গ্রামবাসীসহ থানা পুলিশ

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় গরু চুরি প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। চোরদের যাতায়াত ও পিকআপ ভ্যান প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লার সংযোগ সড়কে বাঁশ বেঁধে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ব্যারিয়ার।

পুলিশের উদ্যোগে স্থানীয় খামারি ও গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে চলছে রাতভর পাহারাও। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও গ্রামের প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় তরুণ ও কৃষকেরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠি ও টর্চ হাতে পাহারা দিচ্ছেন। বিশেষ করে ধানগড়া, চান্দাইকোনা, ব্রহ্মগাছা ও ধামাইনগর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় এ তৎপরতা বেশি দেখা গেছে। ডুমরাই গ্রামের খামারি সবুজ হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে গরু লালন-পালন করা হয়।

কিন্তু সম্প্রতি সংঘবদ্ধ চোরচক্র ট্রাক বা পিকআপ নিয়ে গ্রামে ঢুকে দ্রুত গবাদিপশু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। তাই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গ্রামবাসী একসঙ্গে কাজ করছেন। শালিয়াগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মতিয়ার রহমান জানান, রায়গঞ্জ থানার নির্দেশনায় শালিয়াগাড়ি বাজারেও বাঁশের ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে। পুলিশি টহলের পাশাপাশি স্থানীয়রা পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।

অপরিচিত কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সামা সরকার বলেন, তাঁদের গ্রামের প্রবেশপথে শক্ত বাঁশ দিয়ে গেটের মতো ব্যারিয়ার তৈরি করা হয়েছে। রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত খামারিরা পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে দ্রুত এলাকাবাসীকে সতর্ক করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ কাজে পুলিশের বিট কর্মকর্তা ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করছেন।

চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খান বলেন, জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে পুলিশের একার পক্ষে সব এলাকায় নজরদারি করা কঠিন। তাই খামারিদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ চুরি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে কাউকে সন্দেহ হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, শুধু ঈদকে সামনে রেখে নয়, গত দুই মাস ধরেই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে বাঁশের ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে।

এ কাজে পুলিশের বিট কর্মকর্তা, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় খামারিরা একসঙ্গে কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের ফলে উপজেলায় গরু চুরি অনেকাংশে কমে আসবে এবং খামারিরা নিরাপদে গবাদিপশু পালন করতে পারবেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়