শেষ দফা ভোট কাল, ৩ দিন বন্ধ বাংলাদেশ সীমান্ত
সংবাদের আলো ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট গ্রহণ আগামীকাল।
তার আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সঙ্গে থাকা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত তিন দিন কার্যত বন্ধ রাখা হচ্ছে।
উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা শিল্পা গৌরীসারিয়ার জারি করা এক আদেশে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
তবে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রোগী, পশ্চিমবঙ্গের যে কোনো জেলার ভোটার, যারা ভোট দিতে যাবেন এবং পচনশীল নিত্যপণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি এবং সাধারণ যাত্রী পরিবহন আগামীকাল ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
পাশাপাশি গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে আগামীকাল পর্যন্ত দর্শনা-গেদে স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। ফলে এই সময়ে বাংলাদেশি ও বিদেশি পাসপোর্টধারীরা এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন না।
ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোট চলবে। নিরাপত্তা জোরদারে সীমান্ত সিল করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বসিরহাট ও বনগাঁর পুলিশ সুপার, বারাকপুর ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার, বিএসএফের সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্টসহ মহকুমা ও ব্লক পর্যায়ের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের এ আদেশ ‘কঠোরভাবে’ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
এদিকে গতকাল শেষ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শেষ দফা ভোটের নির্বাচনী প্রচারণা। এদিন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ছিলেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
শেষ দিনে বারাকপুরে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির হয়ে প্রচারে অংশ নেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ঘুরে গণসংযোগ করেন। ভবানীপুরে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন মমতা। সেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীও জোর প্রচার চালান।
এই দফায় সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হবে। মোট প্রার্থী ১ হাজার ৪৪৮ জন। নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় ভোট গ্রহণ হবে। শাসক দল ও বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি তারকা প্রার্থীরাও রয়েছেন এই দফার প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ হাজার ৩৪৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যার বড় অংশ রাখা হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।