ভূঞাপুরে পোল্ট্রি খামারিদের লোকসান কমাতে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পোল্ট্রি খামারীদের লোকসান কমাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন খামারীরা।
দীর্ঘদিন ধরে ডিমের অস্বাভাবিক মূল্য পতনে দেশের পোল্ট্রি খাত এখন চরম সংকটে। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। লোকসানের বোঝা বইতে না পেরে ইতোমধ্যে অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে পুরো খাতটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
এ প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)-এর আয়োজনে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে প্রান্তিক খামারিদের নিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে খামারিরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।
সমাবেশ শেষে খামারিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এর আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক খামারি অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর হোসেন হৃদয়, রাকিবুজ্জামান বাবু, রাসেল রহমান ও আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
খামারিদের দাবি, বর্তমানে তারা প্রতি ডিম ৬.৫০ থেকে ৭.৫০ টাকায় বিক্রি করছেন, অথচ উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১০ থেকে ১১ টাকা। এতে প্রতি ডিমে ২.৫০ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। টানা প্রায় ১০ মাস ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু বাজার সংকট নয়; বরং দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। দেশের মোট ডিম উৎপাদনের প্রায় ৮০ থেকে ৮২ শতাংশই আসে প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিদের কাছ থেকে। তারা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে ভবিষ্যতে ডিমের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে এবং দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খামারিদের অভিযোগ, পোল্ট্রি ফিড, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম ডলারের অজুহাতে বারবার বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। কিন্তু বাজারে ডিমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও এ সংকটকে আরও গভীর করেছে।
একাধিক খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখন প্রতি ডিমে ২-৩ টাকা করে লোকসান দিচ্ছি। এভাবে আর কতদিন চলবো? সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে।”
খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, “ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ—সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু ডিমের দাম কম। আমরা তো শেষ হয়ে যাচ্ছি। অনেকেই খামার বন্ধ করে দিচ্ছে।”
প্রান্তিক খামারি বাবু জানান, “ব্যাংকের ঋণ নিয়ে খামার করেছি। এখন লোকসান দিতে দিতে ঋণের কিস্তি দিতে পারছি না। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।”
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার দখল করে নিতে পারে, যা একচেটিয়া ব্যবসার ঝুঁকি তৈরি করবে এবং ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে।
এ পরিস্থিতিতে খামারিরা প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ডিমের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ, ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য প্রণোদনা ও ভর্তুকি প্রদান এবং পোল্ট্রি ফিডে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।