বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

দীপু দাসকে বাড়ি নির্মাণে ও আর্থিক সহায়তা করবে সরকার

সংবাদের আলো ডেস্ক: ময়মনসিংহের ভালুকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা এই পরিবারটিকে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাড়ি নির্মাণ ও নগদ অর্থ মিলিয়ে এই সহায়তা কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

নিহত দীপু দাসের পরিবারের বসবাসের জন্য একটি পাকা ঘর নির্মাণসহ সার্বিক সুরক্ষার লক্ষ্যে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তা কার্যক্রম ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।

এর আওতায় পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা বাস্তবায়ন করবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে। এর মধ্যে দীপু দাসের বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে এবং তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে গত ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দীপু দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা জানান।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ প্রসঙ্গে ড. সি. আর. আবরার বলেন, ‘দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনো স্থান নেই। তার পরিবারকে সহায়তার যে প্রচেষ্টা সরকার করেছে, তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সুবিচার নিশ্চিত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত্যা করা হয়েছে, তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায়বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে না।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে গণপিটুনির মাধ্যমে তাকে গাছে ঝুলিয়ে এই নৃশংসতা চালানো হয়, যা সে সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে, এই ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের সবাইকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়