সলঙ্গায় নামাজ শেষে অটোরিকশা না পেয়ে কাঁদছেন গাদু ভাই
মো: আখতার হোসেন হিরন: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নামাজ শেষে অটোরিকশা না পেয়ে কাঁদছেন গাদু ভাই। বয়োজ্যেষ্ঠ গাদু ভাই অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর উপার্জনেই চলে চার সদস্যের সংসারের যাবতীয় খরচ। আজ সোমবার সলঙ্গা থানা মসজিদের সামনে অটোরিকশাটি রেখে আসরের নামাজ পড়তে যান,নামাজ শেষে এসে দেখেন অটোরিকশা নেই। পরে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও অটোরিকশাটি পাননি। জীবিকার অবলম্বনটি হারিয়ে কেঁদে ফেলেন গাদু ভাই।
থানা মসজিদের সামনে এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। নুর হোসেন গাদু (৭০) সলঙ্গা সদরের বনবাড়িয়া গ্রামের মৃত মোনসের আলীর ছেলে। কয়েক যুগ ধরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। বৃদ্ধ বয়সে এসেও তিনি সৎ জীবন যাপনের সাথে অটোরিকশা চালাতেন। সলঙ্গা অঞ্চলে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়ায় ছোট বড় সবাই তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে গাদু ভাই বলে ডাকেন।
গাদু ভাইয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়,এই অটোরিকশা কেনার কয়েক মাসের মধ্যে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে ধারদেনা করে অটোরিকশার ব্যাটারি কিনে তা সচল করেন।
গাদু ভাই বলেন,আমি সারাদিন অটোরিকশা চালালেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। অটোরিকশা চালাতে চালাতে যখন নামাজের সময় হয় তখন আশপাশের মসজিদে নামাজ আদায় করি। আজ সোমবার বিকেলে সলঙ্গা থানা মসজিদের সামনে অটোরিকশা রেখে আসরের নামাজে গিয়েছিলাম। চার রাকাত নামাজ শেষ করে এসে দেখি অটোরিকশাটি নেই? এ রিকশাটিই ছিল আমার আয়ের একমাত্র উৎস।
থানা মসজিদের মুসুল্লিদের সাথে কথা বলে জানা যায়,ওই সময় একই মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন গাদু ভাই। তারা বলেন,গাদু ভাই প্রায়ই এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন। আমরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করি। নামাজে এসে যে অটোরিকশা হারাতে হবে এটা মানা খুবই কষ্টের। আমরা সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি, তাঁর আয়ের উৎস হিসেবে একটি নতুন অটোরিকশা কিনে দিয়ে এই প্রবীণ বয়োজ্যেষ্ঠ অসহায় সৎ নামাজি গাদু ভাইয়ের পাশে দাঁড়ান।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।