তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা স্থানীয়করণ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (Women, Peace and Security-WPS) বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) নেত্রকোনার পৌর শহরের পূর্ব কাটলী এলাকায় বিএনপিএস এমএফটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইউএন উইমেন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় তৃণমূল নারী নেত্রী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, কমিউনিটি ফোরামের প্রতিনিধি এবং যুব সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাব এবং বাংলাদেশ সরকারের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ধারণা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করাই ছিল কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
আলোচকরা বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সব পর্যায়ে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ সংঘাত, সহিংসতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ নারীদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব ফেলে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে নারীর অধিকার সুরক্ষা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং টেকসই সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সেজুতি ধর ও হালিমা লিজা। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিএনপিএস নেত্রকোনা কেন্দ্রের কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মৃণালকান্তি চক্রবর্তী। কর্মশালার উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন বিএনপিএস বারহাট্টা কেন্দ্রের কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিত ভৌমিক।
দিনব্যাপী কর্মশালায় দলগত উপস্থাপনা, উন্মুক্ত আলোচনা, দলগত কাজ ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার স্থানীয়করণের গুরুত্ব ও বাস্তবতা নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করেন।
সংস্কৃতি ও নারী অধিকার কর্মী শিল্পী ভট্টাচার্য বলেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে কোটার মাধ্যমে নারীর উপস্থিতি থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা অধিকাংশ সময়েই উপেক্ষিত থাকে।
স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি, নেত্রকোণার প্রকল্প ব্যবস্থাপক কোহিনূর বেগম বলেন, সমাজ নানাভাবে নারীর জীবনকে জটিল করে তুলেছে। নারীর জীবন সহজ করতে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা ও প্রচার আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে জেবুন্নাহার বর্ণ বলেন, নারীর জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে হয় এবং যৌক্তিক মত প্রকাশের সুযোগও সীমিত থাকে। যে কোনো বিষয়ে নারীর মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, সব ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ ও সামাজিক অনুশাসনের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার প্রচার ও বাস্তবায়ন স্থানীয় পর্যায়ে আরও জোরদার করা হবে।
কর্মশালাটি তৃণমূল পর্যায়ে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে এ অ্যাজেন্ডার বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।