শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

ডিএমপি’র এডিসি’র প্রোটোকলে গিয়ে ফেঁসে গেলেন হাতীবান্ধার ওসি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) এডিসি’র প্রটোকলে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেঁসে গেলেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লা। ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে,  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শওকত আলী লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা। ইনডিপেন্টন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লালমনিরহাটের শীতার্ত মানুষে পাশে দাঁড়াতে কম্বল বিতরনের উদ্যোগ নেয়। এসব কম্বল বিতরন করতে শিক্ষার্থীরা প্রধান অতিথি হিসেবে হাতীবান্ধার সন্তান ডিএমপি’র এডিসি শওকত আলীকে প্রধান অতিথি করেন এবং তাকে সাথে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা অডিটরিয়াম হলরুমে সেই কম্বল বিতরন অনুষ্ঠানে গিয়ে এডিসি’র সাথে দীর্ঘ দিন পরে দেখা হয় স্কুল জীবনের সহপাঠি স্কুল শিক্ষিকা শাকিলা খন্দকার মুনার। বন্ধুকে কাছে পেয়ে স্কুল শিক্ষিকা  নৈশ্যভোজের দাওয়াত করেন এডিসি বন্ধুকে।

বান্ধবীর দাওয়াত ফেরাতে না পেয়ে কম্বল বিতরনের পুরো টিম(শিক্ষার্থীরা) নিয়ে ওই দিন রাতে বান্ধবীর বাবা সাখাওয়াত হোসেন রঞ্জু মাস্টারের বাড়িতে নৈশ্যভোজে যান এডিসি শওকত আলী। সিনিয়র অফিসারের নির্দেশনায় তাকে নিরাপত্তা জনীত প্রটোকল দিতে ওই বাড়িতে যান হাতীবান্ধা থানায় সদ্য যোগদানকৃত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুউল্লাহ। সেই প্রটোকলে গিয়ে ফেসবুকের ট্রয়লে পড়েন তিনি। 

এডিসি’র বান্ধবী শাকিলা খন্দকার মুনার   চাচা হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি কেএম আমজাদ হোসেন তাজু। আওয়ামীলীগ নেতা তাজু’র বাড়ি অতিক্রম করে শাকিলাদের বাড়িতে যেতে হয়। শাকিলার বাবা চাচারা ৭ ভাই  সারিবদ্ধ ৭টি বাড়িতে বসবাস করেন। সবগুলো বাড়ির একমাত্র সড়কের  শাকিলাদের বাড়ির গেটে রাখেন এডিসিকে বহন করা সহকারী পুলিশ সুপার(বি সার্কেল) জয়ন্ত কুমারের গাড়ি। সেই গাড়ির ছবি দিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে “আওয়ামীলীগ নেতার বাড়িতে ওসি’র গোপন বৈঠক ও  নৈশ্যভোজ”। এটি দৃষ্টিতে আসে পুলিশের সর্বচ্চ পর্যায়ে। বিষয়টি তদন্ত করতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান। এ ঘটনা নিয়ে গোটা জেলায় পক্ষ বিপক্ষে নানান আলোচনার জন্ম দেয়। মিডিয়া ট্রায়ল মব সৃষ্টির মত ঘটনার জন্ম দিয়েছে বলে উল্লেখ এক স্ট্যাটাসে এনটিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি একেএম মইনুল হক লিখেছেন, একটি ঘটনা আদ্যোপান্ত না জেনে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে নির্দোষ মানুষকে বিপদে ফেলাও অপরাধ। সঠিক তদন্তের দাবি জানান তিনি।

শাকিলাদের প্রতিবেশি উপজেলা যুবদলের যুগ্ন সম্পাদক মোকসেদুর রহমান দুলু বলেন, শাকিলাদের বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি দেখে ভিতরে গিয়ে দেখি শাকিলার বন্ধু এডিসি শওকত আর কিছু শিক্ষার্থী খাওয়া করছে। তবে সেখানে তাজু ভাই ছিলেন না। আর তাজু ভাইয়ের বাড়ি আলাদা। কিছু লোক ওসিকে ফাঁসাতে মিথ্য রটিয়েছে। এখানে অপরাধ হলে ওসি’র চেয়ে সিনিয়র অফিসার ছিলেন। তারও তো অপরাধ হওয়ার কথা। পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সুত্র দাবি করেছে, নতুন ওসি’র যোগদানের পরে বিট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বন্টনে পরিবর্তন করেন। এতে কতিপয় কর্মকর্তা সংক্ষুব্ধ হয়ে ওসি’র প্রতি মনক্ষুন্ন হন। অপর দিকে চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নতুন ওসি কঠোর অবস্থানের কারনেও সীমান্তবর্তি এ উপজেলার চোরাকারবারিরাও ক্ষুব্ধ হন। যার কারনে, ওসিকে ফাঁসাতে এ ট্রয়াল করা হতে পারে।

এডিসি শওকত আলীর বান্ধবী স্কুল শিক্ষিকা শাকিলা খন্দকার মুনা বলেন, অনেক দিন পরে বন্ধুর দেখা পেয়ে বন্ধুত্বে স্বার্থে তাকে ও শিক্ষার্থীদের পুরো টিমকে দাওয়াত করি। সেই দাওয়াতে ওসি এসেছিল এডিসি’র প্রটোকলে তা আমরা জানি না। তাছাড়া চাচার বাড়ি আলাদা, আমাদের বাড়ির সীমা প্রাচীরও আলাদা। কিছু মানুষ না জেনে ফেসবুকে নতুন ওসিকে নিয়ে ট্রয়ল করে তার ক্ষতির অপচেষ্টা করছে। আমি চাই, সুষ্ঠ তদন্ত করে সত্য দিয়ে বিচার করবে কর্তৃপক্ষ। হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লা বলেন, আমার সিনিয়র অফিসার বি সার্কেল স্যার আমাকে মৌখিক নির্দেশনায় এডিসি স্যারকে একটু সময় দিতে বলেন। সেই নির্দেশে আমি ওই বাড়ির কাছে যাই, এডিসি স্যার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলে আমি সৌজন্য স্বাক্ষাত করে চলে আসি। ফেসবুকে যে ছবি ছড়িয়েছে সেটা বি সার্কেল স্যারের গাড়ি। আমি ওই বাড়ির ভিতরেও যাইনি।

লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) জয়ন্ত কুমার বলেন, আমার গাড়িতে ডিএমপি’র এডিসি স্যারকে পৌছে দিতে গাড়িটি পাঠিয়েছিলাম। আমি যাই নি। ফেসবুকে আসা ছবির গাড়িটি আমার। তবে প্রটোকল দিতে ওসিকে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ শওকত আলীকে তার মুঠোফোনে কল করলে ব্যস্থ আছি পরে ফোন করার কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তিতে আর ফোন রিসিভ করেন নি। লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, আমরাও বিষয়টি তদন্ত করছি। একই সাথে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রির্টানিং কর্মকর্তাও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবেন। তদন্ত শেষে বিস্তারীত জানা যাবে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়