,

শিরোনাম

লালমনিরহাটে সাংবাদিক ও ঠিকাদারদের নামে শ্রমিকদল অফিস ভাঙচুর মামলা, ক্ষোভ সাংবাদিক মহলে।।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে দুই বছর আগের একটি ঘটনার অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিক ও তিন ঠিকাদারসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এতে সাংবাদিক খোরশেদ আলম সাগর বাংলা নিউজ ও আজকের পত্রিকার লালমনিরহাট প্রতিনিধিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলার সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সদর থানায় রেলশ্রমিকদলের সহসম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাট রেলস্টেশন এলাকায় শ্রমিকদল কার্যালয়ে আসামিরা হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।

মামলায় উল্লেখিত তিন ঠিকাদারের মধ্যে এলাহী বকস ও তাঁর ছেলে শামসুল ইসলামকে শনিবার ভোরে কালীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরেক আসামি ঠিকাদার শাহ আযম নয়নকে আটক করতে অভিযান চালালেও তিনি পলাতক রয়েছেন। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় সাংবাদিক সাগরকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কালীগঞ্জ উপজেলার দুটি সড়ক দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও লিখিত অভিযোগ করার জেরে ঠিকাদার ও সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। ‘খোঁড়া সড়কে জনদুর্ভোগ’ এবং ‘সড়ক সংস্কারকাজ দখল’ শিরোনামে গত মাসে আজকের পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ও চলবলা ইউনিয়নে প্রায় নয় কোটি টাকার দুটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স ও বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই স্থানীয় বিএনপি নেতারা রাস্তা দখল করে মাটি কেটে কাজ শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এলজিইডি ও উপজেলা প্রশাসনে ঠিকাদাররা লিখিত অভিযোগও করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাট প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সংগঠনগুলো বলছে, সাংবাদিক ও ঠিকাদারদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এবং সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।

আদিতমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরহাদ আলম সুমন বলেন, সাংবাদিকদের হয়রানি করা আজ একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কোন শুভ লক্ষন নয়। তিনি অবিলম্বে সাগরের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিএমএসএফ চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, “দুই বছর আগের ঘটনায় কোনো তদন্ত ছাড়াই সাংবাদিককে আসামি করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ।”

লালমনিরহাট প্রেসক্লাব লালমনিরহাটের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না করলে সাংবাদিকরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”

সদর থানার ওসি নূরন্নবী জানান, মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাংবাদিকের নাম রয়েছে তা মামলা হওয়ার পরেই তিনি জানতে পেরেছেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়