শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কারো ধমক শুনবেন না: ডিসিদের প্রধান উপদেষ্টা

সংবাদের আলো ডেস্ক: দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে কারো রক্তচক্ষু বা ধমকের কারণে কোনো কাজ করার প্রয়োজন নেই। কারো ধমক শুনবেন না। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিসিদের উদ্দ্যেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নিজের কাজ, সৃজনশীলতা প্রকাশ করার এটাই সুযোগ। গদবাধা কাজ তো আছেই। কিন্তু তারমধ্যেও ওই সৃজনশীলতা আছে। যত আইন আছে সবার মধ্যেই কাজ করা যায়। জেলার মধ্যে সময় যতটুকু হোক, সেটিকে স্মরণীয় করে রাখা। এটা একটা স্মরণীয় অধ্যায় হতে পারে, যদি আমরা করতে চাই।’ডিসি সম্মেলনকে মহাশক্তিধর সমাবেশ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আজ যারা এখানে বসে আছি, তারাই সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ সরকার। এটা মহাশক্তিধর একটি সমাবেশ। আমরা যা করি, চিন্তা করি, পরিকল্পনা করি, সেটিই সরকার, সরকারের চিন্তা ভাবনা, কর্তব্য। এই মহাশক্তি নিয়ে আমরা কী কাজ করবো, কী কাজের জন্য তৈরি, সফল-বিফল, সেগুলো আজকের সমাবেশের আলোচ্য বিষয়। এখানে কাউকে স্তুতি দিয়ে সময় নষ্টের সুযোগ নেই। এই স্তুতিবাক্য পরিহারে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিলাম, যেকোনও সভায়, স্তুতিবাক্য অগ্রহণযোগ্য জিনিস বলে আমরা গ্রহণ করবো, আমরা চালু করবো।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে যাকিছু করণীয় তার দায়িত্বে আমরা সবাই আছি। যদি সবাই মিলে বাংলাদেশ সরকার হয়ে থাকে তাহলে একটা টিম হতে হবে।এটা টিম ওয়ার্ক, যে যার মতো করলে হয় না। টিম যখন একত্রিত হয়, তখন টিমের কী করনীয়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। একজনের ভুলে পুরো টিম সাফল্য থেকে বঞ্চিত হয়। কাজেই আমরা কেউ যেন এমন ভুল না করি, যাতে করে পুরো টিমের সাফল্য ব্যাহত হয়, আমাদের গন্তব্যে পৌঁছানো ব্যাহত হয়।’ তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর ছয় মাস চলে গেলো। এটা আমাদের প্রথম পর্ব বলছি, আয়োজনে যে সময় লাগে। অনেক ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে আয়োজনের সময়। এখন সেগুলো ঠিকঠাক করে পুরো খেলার জন্য প্রস্তুত। আমাকে প্রধান অতিথি সম্বোধন করায় একটু কষ্ট পেলাম। মনে হলো এই খেলার মাঠ থেকে আমাকে বাইরে রাখা হলো। হওয়া উচিত ছিল, খেলার ক্যাপ্টেন, কিন্তু আমাকে করলেন অতিথি। আমি অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে চাই না, আমি ক্যাপ্টেন হিসেবে বক্তব্য রাখতে চাই।’প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কাজগুলো আমাদের হাতে মাপা জিনিস। একই জিনিস ঘুরে ফিরে বারবার আসছে। আমার এমন অবস্থায় আছি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা মস্ত বড় ইস্যু হয়ে গেলো। এটাতে আমরা কে কী পরিমাণ অগ্রসর হলাম, কী করনীয়, এক নম্বর বিবেচ্য বিষয় আইন-শৃঙ্খলা। এটাতে আমরা যেন বিফল না হই। কারণ এটাতে আমাদের অর্জন, সফল হতে পারে, বিফল হতে পারে। সেটাতে কী সমন্বয় হতে পারে তা নিয়েই আলোচনা হোক। পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসনের কাজ কী, সমন্বয়ের কাজ কী, কিন্তু ‘‘ওর কারণে এটা হয় না’’ এগুলা বলে আমরা পার পাবো না। যেহেতু জেলার দায়িত্ব একজনের ওপর, তার সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হয় সবকিছু। কাজেই সমন্বয়ে কী সমস্যা সেগুলো পরিষ্কার করে নিতে হবে, যাতে কাজ করতে গিয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে না যাই।’একইসঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন তিনি। বক্তব্যের আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মাঠ প্রশাসন সম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয় ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের। এ সময় সরকারের উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এবার সম্মেলনে ৩৫৪টি প্রস্তাব উঠছে। সম্মেলন শেষ হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার)।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়