সাড়ে ৩ লাখ ডলারে গোল্ডেন পাসপোর্ট দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
সংবাদের আলো ডেস্ক: ধনী বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই প্রশাসন ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচির আওতায় বিদেশিদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ গ্রহণ বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে কর্মসূচিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঋণে জর্জরিত, আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে, নতুন করে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই এর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ চতুর্থ প্রান্তিকে কর্মসূচিটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় বিদেশি আবেদনকারীরা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন।
প্রথম পদ্ধতিতে, একজন আবেদনকারীকে আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অপূরণীয় বা ফেরতযোগ্য নয় এমন অর্থ জমা দিতে হবে। আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রীকে নাগরিকত্বের আওতায় আনতে অতিরিক্ত ১ লাখ ডলার দিতে হবে। আর ১৮ বছরের কম বয়সী প্রতিটি সন্তানের জন্য দিতে হবে ২৫ হাজার ডলার।
অর্থাৎ চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে মোট খরচ দাঁড়াবে ৫ লাখ ডলার। আর্জেন্টিনার অর্থ মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
নাগরিকত্ব পাওয়ার দ্বিতীয় পথটি হলো আর্জেন্টিনা সরকারের বিশেষভাবে তৈরি করা একটি সরকারি বন্ডে ৮ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা। এই বন্ডটি শুধু নাগরিকত্ব কর্মসূচির জন্যই তৈরি করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে পাওয়া সব অর্থ আর্জেন্টিনার আর্থিক ও রাজস্ব পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে।
তবে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেই তা নিশ্চিত হবে না। প্রতিটি আবেদন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। জাতীয় নিরাপত্তা, আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং আর্জেন্টিনার নাগরিকত্বের আন্তর্জাতিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে এই যাচাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
এছাড়া অর্থপাচার ঠেকাতেও কর্মসূচিতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। তবে আবেদন যাচাই ও নাগরিকত্ব পেতে ঠিক কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আর্জেন্টিনায় আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নতুন এই কর্মসূচি রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটিতে জাতীয়তাবাদী মনোভাব জোরালো হয়েছে।
বিদেশিদের জন্য দেশটির কৃষিজমি কেনার সুযোগ বাড়াতে আগে একটি আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিরোধিতা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত আইনটির মূল প্রস্তাব অনেকটাই পরিবর্তন করতে হয়।
নতুন ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
বড় কোম্পানিগুলোর জন্য কর সুবিধা ও আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি শ্রমবাজারে বড় ধরনের সংস্কার করেছে মিলে সরকার। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শিথিল করে আর্জেন্টিনার অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে দেশটির বিদ্যমান মূলধন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিদেশি কোম্পানি এখনো আর্জেন্টিনায় বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আগামী বছরের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।