স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়
সংবাদের আলো ডেস্ক: দ্রুত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্বে রেখে সেটা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন, তিনি তার দায়িত্ব পালনে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন।
সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, সংস্কার ইস্যুতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির সঙ্গে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে সংসদে তাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি তখন ‘এটা পল্টনের বক্তব্য’, ‘এটা রাজপথের বক্তব্য’—এরকম নানা কিছু বলে কথা এড়িয়ে যেতেন। জনগণের সামনে স্পষ্ট যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ আসলে ঠিক নেই এবং এটার জন্য বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—তারা দায়ী।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার বলেছিল, ‘নির্বাচিত সরকার আসলে দেশে মব থেমে যাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ঠিক থাকবে, সবকিছুই তারা বলেছিল।’ কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি যে বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশের আরও বেশি অবনতি হয়েছে এবং তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
নাহিদ বলেন, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর ঘটনাটায় এখন ভিকটিমকে (অভিযুক্ত) ব্লেমিং (দোষী) করা হচ্ছে। সেখানে স্পষ্টত ভাঙচুর ও একটা ফৌজদারি অপরাধ ঘটেছে, এমনকি প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থেকেছে। এখন নানাভাবে সেটা কারা হামলা করেছে বা ভিকটিমের দায় কী—এই ধরনের অনেক নাটক সরকার সাজাচ্ছে।
পুলিশ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে পারছে না পুলিশ। গুলশানের মতো জায়গায় আ. লীগ মিছিল করতেছে। সারাদেশে চাঁদাবাজির ভাগ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ সেটার অংশীদার হচ্ছে। পুলিশের চরিত্র কিন্তু কোথাও পরিবর্তন হয়নি।
নাহিদ বলেন, কিন্তু পুলিশ কমিশন না হওয়ার কারণে, পুলিশ সংস্কার না হওয়ার কারণে পুলিশের প্রমোশন, পোস্টিং সবকিছু সরকারের ওপর, সরকার দলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেখানে দলীয় পুলিশ আবার দেখতে পাচ্ছি। সব প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ হচ্ছে—নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচন দেখছি দফায় দফায় পিছানো হচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশন এক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে বলব যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এটা হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের বক্তব্যে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি বলে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার সেখানে বলেছেন। নিজের প্রকল্পগুলোর কথা বলেছেন যার সবই ব্যর্থ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা দিয়েছেন, তিন প্রজন্মের তিনজন বক্তৃতা দিয়েছেন। এটাই নাকি অর্জন। এটি মূলত লজ্জার।
নাহিদ বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি একটি জনবিরোধী কমিটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেন নির্বাচনের স্বার্থে তারা সংস্কারে রাজি হয়। মূলত তার সদিচ্ছা নেই। অথচ তিনিই এই কমিটির প্রধান। সংশোধনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসে না। এটা বিএনপির নাটক। দ্রুত সংবিধান সংস্কার সভা ডাকতে হবে নতুবা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে এনসিপি।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।