সারাদেশে অত্যাচারের উৎসব লেগে গেছে : মান্না
সংবাদের আলো ডেস্ক: বাংলাদেশের সব জায়গায় অত্যাচারের উৎসব লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, সারা দেশে খুনোখুনি, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটছে। অথচ বড় একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গতকাল রাতে সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিও দেখছিলাম। সেখানে মানুষের স্বপ্ন কীভাবে গুঁড়িয়ে যায়, তার একটি জলজ্যান্ত চিত্র দেখা গেছে। সালমান মুক্তাদির বলছিলেন, তার নিজের শক্তি আছে এবং আবারও স্টুডিওটি দাঁড় করানোর সক্ষমতা আছে। কিন্তু সেখানে যারা চাকরি করেন, তাদের কী হবে? তার স্টুডিওটি দেশের অন্যতম আধুনিক স্টুডিও ছিল, সেটি এভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি বাড়িও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন মা বলেছেন, তিনি ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এত বড় অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল কি? সংস্কার কোথায়? একজন শিশু-কিশোরের জীবনের নিরাপত্তাও নেই।
নিজের দলের এক নেতার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ তুলে মান্না বলেন, আমার এলাকা শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি পুলিশকে ফোন করে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে কোনো মামলা হয়নি; আদালতে মামলা হয়েছে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও জামিন দেয়নি। আবার জজকোর্টও তিন দিন ধরে বসেনি। মানে তারা নিম্ন আদালত দখল করে ফেলেছে। কারা? ওই যে সালমান মুক্তাদির বলেছে না, কারা— তারাই। ওই একই লোক।
তিনি আরও বলেন, আমার সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছেন, কিন্তু মামলার কপি দেওয়া হবে না এবং জজকোর্ট বসবে না— এটা কেমন কথা?
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশজুড়ে কীভাবে খুনোখুনি ও ধর্ষণ চলছে, তা সবাই জানেন। এর মধ্যে গড়পড়তা ২০ টাকা করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সারা পৃথিবীতে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে। নির্বাচনের পর খাল কাটার হুলুস্থুল হয়েছিল, এখন তা আর দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, এসব কথা বললেই কেউ কেউ ফোন করে বলবেন, ‘ভাই, আপনি বিএনপির বিরুদ্ধে চলে গেলেন?’ তিনি বলেন, ‘আমি তো বিরুদ্ধে যাইনি। সত্য কথা বলছি।’ দেড় বছরের মাথায় বিএনপি ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। আমি চাই বিএনপি সফল হোক। গায়ের জোরে কিছু না করা ভালো।
দ্রব্যমূল্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে মান্না বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এত দোষ দেওয়া হলেও তাদের সময় কিন্তু তেলের দাম বাড়েনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারি শহিদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিল্লুর চৌধুরী দীপু ও দেলোয়ার হোসেন রাজা প্রমুখ।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।