,

শিরোনাম

স্ত্রীর আত্মহত্যা: এমপি নজরুলকে ফের ৭ দিনের রিমান্ডে চায় ডিবি

সংবাদের আলো ডেস্ক: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের সাত দিনের রিমান্ডে চেয়েছে পুলিশ। এর আগে তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ রিমান্ড আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দীন আদালতে এ আবেদন করেন। 

ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার মামলাটির রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানায় গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী পেশায় মুদি দোকানদার। তার তিন মেয়ের মধ্যে মরিয়ম (১৯) ছিলেন বড়। ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম বাদীকে ফোন করে তার বর্তমান ঠিকানায় যেতে বলেন।

বাদী সেখানে গিয়ে বাসার একটি কক্ষে তার মেয়ে মরিয়মকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল বলেও দাবি করা হয়।

পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করা হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মরিয়মের মরদেহের ওপর তার নিজের হাতে লেখা একটি চিঠি পাওয়া যায়।

পুলিশের ধারণা, ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে কোনো একসময় মরিয়ম আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় জানা যায়, মরিয়ম খুব আবেগপ্রবণ ছিলেন এবং অভিমান ও পারিবারিক বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে আসামির বক্তব্য। তবে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তাকে আরও বিস্তারিত ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য, মামলাটি চাঞ্চল্যকর। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করতে গাজী নজরুলকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। তবে রিমান্ড আবেদনে আসামির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো কথা বলা হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুল ইসলামের ৪ দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর গাজী নজরুল ও মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়।

পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম ছাড়াও মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলকে ফের রিমান্ডে পাঠাবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়