রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর সংবাদ সম্মেলন

সংবাদের আলো ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর হামলাসহ দেশব্যাপী ভিন্নমতের ভোটার ও সমর্থকদের ওপর নির্বাচনী সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর ও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর নেতারা সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিটি হামলা ও খুনের বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, নির্বাচনের পর মূলত দুই ধরনের ঘটনা ঘটছে। একদিকে বিএনপি প্রার্থী পরাজয়ের দায় অন্য প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে যেখানে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, সেখানে জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনকি নয় বছরের শিশুও হামলা থেকে রেহাই পায়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর বিরোধী ও সরকারি দল তাদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবে-এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৬৩টি আসন পেয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় বিজয়ের পরও তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের হামলার চিত্র দেখা যায়নি। কিন্তু এবারের নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এস এম ফরহাদ বলেন, এসব ঘটনায় দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য আসছে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জোটের নেতারা যেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও আক্রমণের রাজনীতি পুনরায় চালু না করেন।

তিনি বলেন, আমরা নতুন করে সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই না এবং জুলাই আন্দোলনের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যেন নষ্ট না হয়। হামলা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার নথিপত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তা গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সহিংসতা, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল মহলকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদেরকে আমরা আশ্বস্ত করছি- আপনারা কাউকে ভয় পাবেন না। সে যে হোক। আমরা ইতিমধ্যে ডাকসুর পক্ষ থেকে আমাদের পেজে ঘোষণা দিয়েছি। আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক নাম্বার দিয়েছেন একটা মেইল দিয়েছি। কেউ যদি হুমকি দেয় আমাদেরকে অভিযোগ দেবেন। আমরা দেশীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়