পাবনায় বান্ধবীর ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও সহকারি শিক্ষিকা, এক মাসেও আটক হয়নি
সঞ্জিত চক্রবর্তী, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ব্যাংকার বান্ধবীর ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১২ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন এক সহকারি শিক্ষিকা। ঘটনার এক মাস পার হলেও পুলিশ এখনো অভিযুক্ত ইফফাত মোকাররমা সানিমুনকে (৩২) আটক করতে পারেনি। এ ঘটনায় শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ব্যাংকার তানিয়া হক।
অভিযুক্ত সানিমুন পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের আরাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা ও সোহরাব হোসেনের মেয়ে। সংবাদ সম্মেলনে তানিয়া হক জানান, গত ৫ জুলাই বিকেলে তিনি, সানিমুন ও আরেক বান্ধবী সানিজা ইয়াসমিন পপিকে নিয়ে চাটমোহরের কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টে ঘুরতে যান। রাতে বাসায় ফিরে গহনা আলমারিতে রেখে ঘুমানোর আগে সানিমুনের বানানো কফি খান। পরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, সানিমুন নেই। মোবাইলে যোগাযোগ করলে প্রথমে কল রিসিভ না করলেও পরে জানান জরুরি কাজে ঢাকায় যাচ্ছেন। তানিয়া হক আলমারি ও ব্যাগ পরীক্ষা করে দেখেন, নগদ ১২ হাজার টাকা ও ১৫ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার নেই, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা।
ঘটনার পর থেকে সানিমুনের ফোন বন্ধ রয়েছে। পরিবারের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ৯ জুলাই এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া থানায় মামলা হলেও এখনো আসামী গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো আসামীপক্ষ থেকে তানিয়া হক ও তার ভাইকে হয়রানিমূলক মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার আলী জানান, সানিমুন প্রায় এক বছর ধরে ছুটিতে ঢাকায় থাকেন। মাঝে মাঝে এসে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে পুনরায় ছুটি নেন, যা তাদের জন্যও বিব্রতকর।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আসামীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার সম্ভব। চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরজুমা আক্তার বলেন, আসামী ঢাকায় আত্মগোপনে থাকায় সময় লাগছে, তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।