১৭ বছরে গ্যাসের একটি কূপও খনন হয়নি: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম
সংবাদের আলো ডেস্ক: বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এটা আমি স্বীকার করি কিন্তু এই সমস্যা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। বিগত বছরগুলোতে আমরা জেনেছি ১০০% বিদ্যুতায়নের দেশ। যখন থেকে আমরা ক্ষমতায় এসেছি তখন দেখলাম ১৭ বছরের বিদ্যুৎ উৎপাদনে শুভঙ্করের ফাঁকি ও দেশে গ্যাস উত্তোলনের একটি কুপও খনন হয়নি। বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কোন স্থায়ীভাবে সমাধান করা হয়নি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অপরাধ নির্মূল ও দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করতে ভৈরব বাজার শহর ফাঁড়ি থানা চত্বরে আয়োজিত সিসি ক্যামেরা স্থাপন উদ্বোধন শেষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ভৈরব বাজার ও অপরাধপ্রবণ এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় এসেছে। শহরে ইতোমধ্যে উন্নতমানের ৫০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভৈরব শহরে ৩০০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। আমরা ভৈরবের মানুষ শান্তিতে চিন্তামুক্ত হয়ে ঘুমাতে চাই। গুটি কয়েকজন মানুষ অপরাধী। পুলিশের পক্ষে একা কিছুই করা সম্ভব না। আমরা সচেতন হলে অপরাধী নির্মূল করা সম্ভব। যতক্ষণ আমরা সঠিক কথা না বলবো যতক্ষণ না আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ না করবো ভৈরবে অপরাধী নির্মূল সম্ভব না। ইদানিং ভৈরবের কিছু তুচ্ছ ঘটনা আমাদেরকে লজ্জিত করেছে। ভৈরবে গুটি কয়েকজনের স্বার্থের ঘটনা নিয়ে রেলপথ ও সড়কপথ ৩/৪ ঘন্টা বন্ধ করে দেই। এনিয়ে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়। একটি বাজারের নাম নিয়ে কেন দুইটি প্রাণ জড়ে যাবে। আমরা সুন্দর ভৈরব গড়ার কাজ করবো আর গুটি কয়েকজন অপরাধীর জন্য তা নষ্ট হবে তা মেনে নেবো না।
মো. শরীফুল আলম আরো বলেন, মাদক ও ছিনতাই নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আমার দলের কেউ যদি অপরাধ করে তাকে চিহ্নিত করে উপযুক্ত প্রমাণাদি নিয়ে আইনের আওতায় আনুন।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে কোন অপরাধের বিরুদ্ধে আপনারা প্রতিবাদ করুন। এতে যদি কারো সমস্যা হয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করবো। প্রত্যেককে বিবেকবান হতে হবে, সচেতন হতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সন্তানদের নজরে রাখতে হবে। সঙ্গ দোষে সন্তানরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। কখন কোথায় যায় কার সাথে মেলামেশা করে খোঁজ রাখুন। ভৈরবকে নিরাপত্তার চাদরে ডেকে দেয়া হবে। সিসি ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোক দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ভৈরবে শহররক্ষা বাধ নির্মাণে বৃহত্তর প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে। ভৈরবে ও আশপাশের জেলা উপজেলার ব্যবসায়ীদের জন্য নদী ঘাটের টার্মিনাল ফ্রি করে দেয়া হবে। আগামী বছর থেকে চেম্বারের নেতৃত্বে টার্মিনাল ঘাট নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
আলোচনা সভায় ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ¦ মুহাম্মদ জাহিদুল হক জাবেদের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ, ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।
কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলী ভার্চুয়ালী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আরাফাত ভূইয়ার সঞ্চালনায় চেম্বারের পরিচালকবৃন্দসহ ভৈরব বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা, ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে আলোচনা শেষে বেলা ১২টায় ভৈরব উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, দরিদ্র মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে টিন ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদেন। বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলা মিলনায়তনে এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।