যুক্তরাষ্ট্র-আফ্রিকা থেকে তেল আমদানি বাড়ালো ভারত
সংবাদের আলো ডেস্ক: ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভারত বর্তমানে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বাজারের দিকে ঝুঁকছে।
সোমবার (২৫ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ট্রেড ডাটা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ এর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত ভারত মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। তবে এপ্রিল ও মে মাসে সেই ঘাটতি মেটাতে ভারতীয় শোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, অ্যাঙ্গোলা এবং নাইজেরিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। একই সাথে রাশিয়ার তেল আমদানিও অব্যাহত রাখা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত মাসে রফতানি বন্ধ থাকায় ইরাক থেকে কোনো তেল কেনেনি ভারত। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটনের সাময়িক ছাড়ে দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে তেল আমদানি করেছে নয়াদিল্লি।
অন্যদিকে, শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এপ্রিলে রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানি ২৯.৪% হ্রাস পেয়ে দৈনিক ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছিলো; তবে মে মাসে তা আবার বেড়ে দৈনিক ১.৯ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির সংকটের মাঝেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে ভারতের তেল আমদানি সচল ছিল। কারণ, এই দুটি দেশেরই কেবল হরমুজ এড়িয়ে তেল রফতানির বিকল্প পাইপলাইন রয়েছে; যেখানে কুয়েত, ইরাক বা কাতারের মতো দেশগুলোকে সম্পূর্ণ এই জলপথের ওপরই নির্ভর করতে হয়।
ইউএই থেকে আমদানি বৃদ্ধির কারণে এপ্রিলে ওপেকের বাজারে ভারতের আমদানির অংশ মার্চ মাসের ৩০% থেকে বেড়ে ৪৫.২%-এ দাঁড়িয়েছে, যদিও রুশ তেলের রফতানি ৫০% থেকে কমে ৩৫%-এ নেমে এসেছে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।