হস্তান্তরের আগেই দুর্গাপুরের মডেল মসজিদে ফাটল
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এগিয়ে চলছে একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ। তারই অংশ হিসেবে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরে কেন্দ্রীয় ঈদ গাঁ মাঠ সংলগ্নে নির্মাণ করা হচ্ছে মডেল মসজিদ। তবে মসজিদটি হসÍান্তরের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে দেওয়ালের বিভিন্ন অংশে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। কর্তৃপক্ষ বলছেন, মসজিদের অন্যান্য কাজ দ্রুত সমাধান করেই হস্তান্তর করা হবে।
যানা যায়, ২০১৯ সালের আগস্টের দিকে দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ৪৩ শতক জমিতে কাজ শুরু করা হয় এই মসজিদের। তিনতলা বিশিষ্ট এই মসজিদের বিভিন্ন দেওয়ালে ফাটলের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বলছেন এটা তেমন কোনো বিষয় নয়। প্রায় ১২ কোটি ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে মসজিদটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ১ম ধাপের ঠিকাদারের মৃত্যুর কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০২৩ সালের জুন মাসে ওই চুক্তি বাতিল করা হয়।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আতাউর রহমান খান লিমিটেড ও অসীম সিংহ জেভি নামে নতুন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। পরবর্তিতে আগামী দুই এক মাসের মধ্যেই হস্তান্তরের কথা থাকলেও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়ায়, কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, কাজের মান খারাপ হওয়ায় দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সেকুল মিয়া বলেন, হস্তান্তর হওয়ার আগেই মসজিদের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, এতে আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করছি। এতোদিন পর এলাকায় একটি নান্দনিক মডেল মসজিদ নির্মান হচ্ছে, এখনি যদি ফাটল ধরে তাহলে অন্যান্য কাজ অবশ্যই আরো নি¤œমানের করা হয়েছে। কাঠের দরজা গুলো সেগুন কাঠের দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে মিক্সার করে। রড যে নামের ধরা ছিলো তা দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্নধার আতাউর রহমান খান বলেন, মসজিদের বিভিন্ন অংশে ফাটলের খবর পেয়ে কাজ দেখার জন্য এসেছি। পরিবেশ বান্ধব ইট ব্যাহারের কারনে মসজিদের দেয়ালে ‘‘হেয়ার ক্র্যাক’’ দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রকৌশলী মহোদয়ের পরামর্শ ক্রমে, অন্যান্য কাজ শেষ করেই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আমার জানামতে মসজিদের কাজে কোন প্রকার ক্রুটি রাখিনি।
জেলা গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী (সিভিল) ফয়সাল আহমেদ রাফি বলেন, মসজিদের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি, বিভিন্ন অংশে ‘‘হেয়ার ক্র্যাক’’ দেখা দিয়েছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মসজিদের কাজের দায়িত্বে যেহেতু আমরা আছি, কাজে কোন প্রকার অনিয়ম করতে দেবোনা। মসজিদের কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।