শাহজাদপুরে অনুমোদনহীন বায়োপ্লান্টে বিস্ফোরণ, দুইজন নিহত
শাহজাদপুর(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বাড়ির সাথে লাগোয়া গরুর গোয়ালঘরের পাশে স্থাপিত একটি বায়োপ্লান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের শরীষাখোল দুর্গাদহ এলাকায় রুপ ঘোষের বাড়ীর বায়োপ্লান্টে গত শনিবার(১৮এপ্রিল) বিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঘটনাটিকে ধাপাচাপা দিয়ে এ দুর্ঘটানার ব্যাপরে ফায়ার সার্ভিসকে কিছুই জানায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। নিহতরা হলেন উপজেলার কাশিনাথপুরের সস্তাবাজ গ্রামের সোনা প্রামানিকের ছেলে লাল চাঁদ প্রামানিক (৪৫) ও রেশমবাড়ীর মোঃ মমিন(৩৫)। তারা ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতরবিবার মারা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বিধি না মেনে বায়োপ্লান্টটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। নিহতরা গরুর খামারে গরু দেখভালের কাজ করে, অভিযোগ রয়েছে, তাদের মতো অদক্ষ শ্রমিকদের দিয়েই বায়োপ্লান্টের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হতো। ঘটনার দিন তাদের দিযে আবারও বায়োপ্লান্টের ভিতরে পরিষ্কার করানোর জন্য ভিতরে প্রবেশ করিয়ে পরিষ্কার করার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে।
এসময় ভয়াবহ এ বিস্ফোরণে দুইজনের শরীরের ৯০% পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় পিপিডি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেন।
এ বিষয়ে পিপিডি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সাদমান হোসেন জানান, দগ্ধ দুইজনকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালের বাইরে থেকেই তাদেরকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে রুপন কুমার ঘোষ(রুপ) জানান, বায়োপ্লান্ট থেকে ওরা পাম্প দিয়ে পরিষ্কার করতে গিয়ে নীচে নেমে একজন সিগারেট জ্বালানোয় আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ও অদক্ষ শ্রমিককে পরিষ্কার করতে কেন পাঠালেন এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যাস্তবলে মুঠোফোন কেটে দেন।
এদিকে সোমবার(২০এপ্রিল) উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার পারভেজ আহম্মেদ জানান, শরীষাখোল দুর্গাদহ এলাকায় রুপ ঘোষের বাড়িতে যে বায়োপ্লান্টে আছে তার কোন আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই ফায়ার সার্ভিসের কাছে। এমনকি দূর্ঘটনার ব্যাপারেও কিছুই জানানো হয়নি। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানতে পেরে ঘটনাস্থল গতকাল পরিদর্শন করেছি।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির ভেতরে যে বায়োপ্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে, তার কোনো অনুমোদন নেই। আমাদের অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট যে সেফটি প্ল্যান প্রয়োজন, তা কখনোই বাড়ির ভেতরে এভাবে বাস্তবায়ন করা যায় না। ফলে প্লান্টটি সম্পূর্ণভাবে অননুমোদিত।
বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা ঘাটতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় বিনা অনুমতিতে বায়োপ্লান্ট স্থাপন এবং নিরাপত্তা অবহেলার কারণে দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অপরদিকে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, গতশনিবারে বায়োপ্লান্ট বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।