বেলকুচিতে নিখোঁজ যমজ দুই শিশুকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর
উজ্জ্বল অধিকারী: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে নিখোঁজ হওয়া মাদ্রাসা ছাত্র যমজ দুই শিশুকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে বেলকুচি থানা পুলিশ। পরে তাদের নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের দ্রুত ও সফল অভিযানে স্বস্তি ফিরে এসেছে পরিবারে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম (৫৯) এর যমজ দুই ছেলে রাসেল রানা (১১) ও রাশেদুল ইসলাম (১১) গত রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে নিখোঁজ হয়। জানা গেছে, দুই ভাই নিজ বাড়ি ধীতপুর থেকে বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বওড়া বারেক মাওলানা কওমিয়া মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। পথে বেলকুচি থানাধীন শেরনগর এলাকা থেকে তারা নিখোঁজ হয়ে যায়।
এরপর তারা মাদ্রাসা কিংবা বাড়ি-কোনো স্থানেই পৌঁছেনি। সন্তানদের খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালান। কিন্তু কোনো সন্ধান না মেলায় অবশেষে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বেলকুচি থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাদের বাবা। জিডি দুটি নং ১৬৫৯ ও ১৬৬০, তারিখ ৩১/০৩/২০২৬ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। নিখোঁজের ঘটনায় বাবা-মা ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। সন্তানদের হারিয়ে তারা প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বেলকুচি থানা পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন সূত্র এবং সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে। পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড এলাকার “মামা ভাগ্নে ভাতের হোটেল” থেকে যমজ দুই ভাইকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুদের নিরাপদে বেলকুচি থানায় নিয়ে আসা হয়।
পরে বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সাধারণ ডায়েরি নং ৪৭ মূলে তাদের পিতা মোঃ নজরুল ইসলামের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা বেলকুচি থানা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও সফল উদ্ধার অভিযানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহুরুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজের বিষয়ে পৃথক দুটি জিডি গ্রহণের পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশু দু’জনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”স্থানীয় এলাকাবাসীও পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।