বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

নাগরপুরে জমি দখলের অভিযোগে বিতর্কে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়ারত

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক অসহায় কৃষকের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জিয়ারত হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি জয়ভোগ গ্রামের মৃত জাবেদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মো. উমেজ উদ্দিন বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১৩৩৪ সনে জমির মূল মালিক শ্রী মহানন্দ বর্ধন তার ৫১ নং খতিয়ানের ২৫৪-২৭৩ দাগে ৩ শতাংশ এবং ২৫৪-২৭৪ দাগে ৪ শতাংশসহ মোট ৭ শতাংশ জমি মঙ্গল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে জমিটি ১১৫ নং খতিয়ানে ৪০৪ ও ৪০৫ দাগে মঙ্গল আলীর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এরপর থেকে তার ছেলে উমেজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্বল্প সময়ের মধ্যে তার ভাই-ভাতিজাসহ ৪ জন মারা গেলে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। এই সুযোগে জিয়ারত হোসেন ওই জমির ৩ শতাংশ অংশ দখলের চেষ্টা চালান। প্রায় তিন যুগ আগে রাতের আঁধারে উমেজ উদ্দিনের ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকে জিয়ারতকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে বর্তমানে তিনি সেই জরিমানার অর্থকেই জমি ক্রয়ের মূল্য হিসেবে প্রচার করে আসছেন।

সর্বশেষ ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে জিয়ারত হোসেন তার সহযোগীদের নিয়ে উমেজ উদ্দিনের জমিতে বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অতীতে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর আ. হালিম নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাবুল হোসেন বাদী হয়ে জিয়ারত হোসেনসহ ২০ জনের নামে নাগরপুর থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা (মামলা নং-১৩, তারিখ: ২৯ অক্টোবর ২০১৮) দায়ের করেছিলেন।

ভুক্তভোগী উমেজ উদ্দিন বলেন, “জিয়ারত ও তার লোকজন আমাদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে। সালিশে তাকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এখন সেই টাকাকেই জমি কেনার মূল্য বলে দাবি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়ারত হোসেন দাবি করেন, তিনি ৭ হাজার টাকায় ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো বৈধ দলিল দেখাতে পারেননি। পাশাপাশি তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য নতুন করে জমি কিনে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান।

মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল মুঠোফোনে জানান, “এ বিষয়ে কোনো পক্ষ আমার কাছে আসেনি। বিষয়টি আমার জানা নেই।”

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়