শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পাবনা-৩ এ ভোটের অঙ্ক বদলাচ্ছে, তৃণমূল ঝুঁকছে বিদ্রোহী প্রার্থীর দিকে

সঞ্জিত চক্রবর্তী, পাবনা প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। সেই অসন্তোষ এখন রূপ নিয়েছে সরাসরি অবস্থান বদলে। ক্রমেই শক্ত অবস্থান নিচ্ছেন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে ‘বহিরাগত’ প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক নেতা কে এম আনোয়ারুল ইসলামের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে না থাকার ঘোষণা দেন।

তারা প্রকাশ্যে ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, মামলা-হামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু সেই ত্যাগের মূল্যায়ন না করে এমন একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে, যাকে তারা নিজেদের নেতা হিসেবে দেখেন না। তাদের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নেতাকর্মীকে বিএনপিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, যা মাঠের কর্মীদের জন্য অপমানজনক। তারা বলেন, “আমরা ধানের শীষের মানুষ, কিন্তু ধানের শীষের নামে ফ্যাসিস্টদের দলে ভেড়ানো মেনে নেওয়া যায় না।” বক্তারা জানান, সাবেক সংসদ সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে চাটমোহরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে পরিচিত।

তাকে প্রার্থী করার দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষেই দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চাটমোহর পৌর বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তাইজুল। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক তানভীর জুয়েল লিখন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রাহুল, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেনসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক নেতা। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণার ফলে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর সাংগঠনিক ভিত্তি আরও দুর্বল হলো। তৃণমূলের একটি বড় অংশ এখন প্রকাশ্যেই কে এম আনোয়ারুল ইসলামের পক্ষে মাঠে নেমেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক এমপি হিসেবে আনোয়ারুল ইসলামের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনও এলাকায় বেশ শক্ত। তার সময়কার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভোটারদের মধ্যে আলোচিত হওয়ায় দলীয় বহিষ্কার সত্ত্বেও তিনি একাংশ ভোটারের সমর্থন ধরে রাখতে পেরেছেন। এদিকে, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয় কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে দলটি। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএনপির ভাঙন, বিদ্রোহী প্রার্থীর শক্ত অবস্থান এবং জামায়াতের সংগঠিত মাঠকর্ম—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে পাবনা-৩ আসনে নির্বাচনী ফলাফল শেষ পর্যন্ত বড় চমক দেখাতে পারে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়