নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার’র নেতৃত্বে গণপূর্তে লুটপাটের মহোৎসব
স্টাফ রিপোর্টার: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইডেন গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে ঢাকা ডিভিশন–২ এ কর্মরত মো. আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজের নামে ব্যাপক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। চলতি অর্থবছরসহ আগের কয়েক বছরে এপিপির আওতায় বিপুল পরিমাণ কাজ অনুমোদন ও বণ্টনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদার ও কর্মকর্তা জানান, বদলির ঠিক আগ মুহূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার তড়িঘড়ি করে প্রায় ৯ কোটি টাকার সংস্কার কাজ অনুমোদন দেন। এসব কাজের বিপরীতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ হারে কমিশন আদায় করা হয়।
এতে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৯০ লাখ টাকা কমিশন নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, ঢাকা ডিভিশন–২ এ বদলি করা হয়। এতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের তালিকায় আব্দুস সাত্তার অন্যতম। সূত্রগুলো আরও জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভেতরে ৮টি ভবনের সংস্কার কাজে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়। বাস্তবে এসব কাজের বড় অংশই হয়নি। কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়, যার অর্ধেক অংশ নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গোপন দরপত্রের মাধ্যমে কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবেই গত চার বছরে ইডেন গণপূর্ত বিভাগে এপিপির আওতায় প্রায় ২০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, শুধুমাত্র সংস্কার কাজের ভুয়া বিল থেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার তিন বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা কমিশন গ্রহণ করেছেন। এর আগের অর্থবছর ২০২৩–২৪ সালেও ইডেন গণপূর্ত বিভাগের অধীন সচিবালয়ের ৯টি ভবনের সংস্কারের নামে দেড় শতাধিক কাজ দেখিয়ে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রেও বাস্তব কাজের তুলনায় ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা স্পষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে।
গণপূর্ত সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, প্রতিবছর একই ধরনের কাজ—যেমন দরজা-জানালা মেরামত বা রং করার নামে—বারবার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবে কাজ না করেই ভুয়া বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করলে বছরের পর বছর ধরে চলা এই অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা ডিভিশন–২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে এবং মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।