টাঙ্গাইলে মাদ্রাসায় শিশু বলাৎকারের অভিযোগ
ভূঞাপুর ( টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: ভূঞাপুরের পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার একটি হাফিজিয়া মাদরাসায় ৯ বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠেছে খোদ মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ঘাটাইল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহষ্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পূর্ব লোকেরপাড়া এলাকার মারকাযুল কোরআন রিজিয়া ফজলুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশু পাশের যোগীহাটি এলাকার বাসিন্দা
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদরাসার শিক্ষক হানিফ শিশুটিকে ডেকে অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে শিশুটিকে দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করানো হয়। পরে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার পর শিশুটিকে বিষয়টি কাউকে না জানাতে নিষেধ এবং বাইরে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরদিন শুক্রবার অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনার কথা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা মাদরাসায় গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, “ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার জন্য মাদরাসায় পাঠিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার নিষ্পাপ সন্তান এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার ছেলের সঙ্গে এমন নোংরা কাজ করেছে, আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এমন শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো মায়ের কোমল শিশুর সঙ্গে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।” কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার খবর সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়লে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ভুক্তভোগীর চাচা লুৎফর রহমান মাদরাসায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ওই মাদরাসায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের অভিযোগ, সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিলেন বর্তমান অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফ। তবে আগের ঘটনায় সতর্ক হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হত না।
ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তারা মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লোকেরপাড়া ও এস ফাযিল মাদরাসার সহ-সভাপতি কাওসার আহম্মেদ কায়েস বলেন, “আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
ভুক্তভোগীর চাচা লুৎফর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ আইনগত শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকসেদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।