শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দুর্গাপুরে সংবাদ সম্মেলন

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা ঝিনুক আক্তার। তিনি ওই গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। 

শনিবার (২০ জুন) দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে ঝিনুক আক্তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, “গত সোমবার (১৩ই জুন) শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মামুন মিয়া (৪০), পিতা : আদম আলী আমাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে পুলিশে খবর দেয় যে, আমাদের বাড়িতে মাদক রয়েছে। পরে পুলিশ এসে বাড়ি তল্লাশি করে এবং আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় আমরা পুলিশকে বলি আমাদের বাড়িতে কোন প্রকার মাদক থাকার প্রশ্নই আসে না। আমাদের অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই পুলিশকে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “দুর্গাপুর থানার এএসআই কাইয়ুম এর নেতৃত্বে আনুমানিক রাত ১১টার দিকে পুলিশ বাহিনী আমাদের পুরো বাড়ি তল্লাশি করে। এসময় মাদক সংক্রান্ত কোন কিছুই পায়নি। পরের দিন পুলিশ সকাল ৯টার দিকে আমার মা এবং ভাইকে থানায় তুলে নিয়ে আসে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, “তারা বলে যে, তাদের নামে নাকি থানায় অভিযোগ রয়েছে। এদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার যখন তাদের পুলিশ থানায় নিয়ে আসতে থাকে তখন আমরা বিষয়টি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এই সুযোগে ঘর ফাঁকা পেয়ে স্থানীয় মামুন মিয়া, এলাকার মঞ্জুল ইসলাম (১৫) কে দিয়ে আমাদের ওয়ারড্রবের উপরে একটি ব্যাগে রাখা ৫০ হাজার টাকা ব্যাগসহ আত্মসাৎ করায়। সে ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় আমার প্রতিবেশী তাসলিমা আক্তার এবং হৃদয় মিয়া দেখে ফেলে। পরে তারা আমাদের বিষয়টি অবগত করে। পরবর্তীতে আমরা মামুন মিয়ার স্মরণাপন্ন হলে সে ৫-৬ মিনিটের মধ্যে ব্যাগ উদ্ধার করে দেয়। আমি ব্যাগ চেক করে দেখি ব্যাগে ৩০ হাজার টাকা রয়েছে। আমি তাকে বলি, ব্যাগ তো ৫০ হাজার টাকা ছিলো। তাহলে ২০ হাজার টাকা কোথায় গেল। তখন মামুন মিয়া আমাকে বলে যে, যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো। আর আশা করো না।”

“এরপর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির স্মরণাপন্ন হলে মামুন মিয়া আশ্বস্ত করে সে ২ দিনের মধ্যে বাকি টাকা অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা আমাকে ফেরত দিয়ে দিবে। সে আমাদের সকলের সামনে এই আশ্বাস প্রদান করে। বর্তমানে মামুন মিয়া আত্মগোপন করেছে। তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আমি তার সাথে একদিন যোগাযোগ মাধ্যম ইমুতে যোগাযোগ করলে সে আমাদের বলে, পারলে আমার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করিস। এসময় সে আমাকে নানা হুমকি দেয়। আমাকে বলে, আমাদের বাসায় মাদক এনে ফাঁসিয়ে আমাদের পুলিশে ধরিয়ে দিবে। এছাড়া সে আমাকে নানা কুপ্রস্তাব দেয়। সে আমাদের প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করে৷ এ অবস্থায় আমি পরিবার নিয়ে খুব শঙ্কার মধ্যে আছি।”

সংবাদ সম্মেলনে এই ভুক্তভোগী আরো বলেন, “আমি আপনাদের মাধ্যমে বিষয়গুলো প্রশাসন সহ সবাইকে অবগত করছি। আমি আজ থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করতে বলে। এমতাবস্থায় আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমরা সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই।”

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়